বাহাদুরাবাদ-বালাসী দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন
বিল্লাল হোসেন মণ্ডল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নৌঘাট থেকে গাইবান্ধার বালাসী ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে বাহাদুরাবাদ নৌ টার্মিনালের সামনে 'দেওয়ানগঞ্জবাসী'-এর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, একসময় এই ঘাট ছিল উত্তরাঞ্চলের হৃৎস্পন্দন। বাহাদুরাবাদ ঘাট দিয়ে নিয়মিত মানুষ ও পণ্য পারাপার হতো। তাই দেওয়ানগঞ্জবাসীর এখন একটাই দাবি বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে গাইবান্ধার বালাসী ঘাট পর্যন্ত 'দ্বিতীয় যমুনা সেতু' নির্মাণ করতে হবে।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা আরও বলেন, বিগত সরকার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করে বাহাদুরাবাদ ঘাটে আধুনিক ফেরিঘাট টার্মিনাল নির্মাণ করেছে। সেখানে বিশাল টার্মিনাল ভবন, ব্যারাক ও টোলপ্লাজাসহ অবকাঠামোর কোনো কমতি নেই। কিন্তু ঘাটটিতে নেই কোনো ফেরি, নেই যাত্রী। নদীতে নাব্যসংকট ও চর জেগে ওঠায় ফেরি চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যেখানে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে একটি অচল ফেরিঘাট নির্মাণ করা যায়, সেখানে জনস্বার্থে একটি পরিকল্পিত ও টেকসই সেতু নির্মাণ কেন সম্ভব নয়—এমন প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।
পৌর বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার সোহেল বলেন, "বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে সেতু নির্মিত হলে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আটটি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে ঢাকায় যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি তৈরি হবে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।"
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সড়ক সেতুর পাশাপাশি এখানে একটি রেলসেতু নির্মাণ করা গেলে এই করিডোর উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপর বিদ্যমান অতিরিক্ত চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম লাবলুর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাবিব পলিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খাঁন রাসেল, যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জু হোসেন, চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম, ঘাট ইজারাদার শাহ আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবী মানুষ।
