পরীক্ষা শেষ হয়েছে চার মাস আগে। এরই মধ্যে অনেক বিভাগের পরবর্তী বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ, কোথাও আবার চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু এখনো প্রকাশ হয়নি আগের বর্ষের ফলাফল। দীর্ঘ এ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ বাড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় উচ্চশিক্ষা, চাকরির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। তাদের অভিযোগ, সাত কলেজে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও নানা জটিলতার কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
২০১৭ সালে সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট নিরসনের আশা জাগে। তবে প্রায় এক দশক পরও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। বরং ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা এখন অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় চার মাস আগে। কিন্তু এখনো ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এতে আমরা চরম হতাশায় ভুগছি। অনেক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষাও শেষ হয়ে গেছে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা প্রয়োজন।’
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনার্স তৃতীয় বর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের চতুর্থ বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা চলছে। আবার চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচিও প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু তৃতীয় বর্ষের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি। কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছি কি না, তা জানতে না পারায় আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে অনার্স পর্যায়ে ২৫টি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের ছয় মাস বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনার্স চতুর্থ বর্ষ (২০২০-২১ সেশন)-এর ফলাফলই এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়েছে। অনার্স তৃতীয় বর্ষ (২০২১-২২ সেশন)-এর ক্ষেত্রে কেবল আরবি বিভাগের একটি বিষয়ের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ (২০২২-২৩ সেশন)-এর সমাজবিজ্ঞান, বাংলা, ইসলামিক স্টাডিজ, ইতিহাস, আরবি, হিসাববিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আর অনার্স প্রথম বর্ষ (২০২৩-২৪ সেশন)-এর ২৫টির মধ্যে ২০টি বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী বলেন, সাত কলেজের ফলাফল প্রকাশ একটি চলমান ও সমন্বিত প্রক্রিয়া। তাই নির্দিষ্ট করে ফল প্রকাশের সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন কলেজ ও বিভাগের পক্ষ থেকে পরীক্ষার খাতা জমা দিতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ফল প্রকাশে দেরি হয়। সংশ্লিষ্ট কলেজ ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মতে, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষার আবেদন, বৃত্তির সুযোগ, চাকরির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

