প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ থেকে সরে গেছে সরকার। এতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগটি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পায়নি এবং বিষয়টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে সরকার সরে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঘোষিত সব বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনে করে দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ইসলামী মূল্যবোধ, পারিবারিক আদর্শ এবং জনগণের বিশ্বাস-চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো শিক্ষানীতি বা কর্মসূচি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, আশা করি সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ভেতরে একটি মহল বারবার জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে নিয়ে আসছে। সরকার এসব উদ্যোগের নেপথ্যে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি সরকারের শুভবুদ্ধির পরিচয় এবং জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে ১০ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্ত্রণালয়ে এক সভায় প্রাথমিক শিক্ষায় ২০২৭ সাল থেকে পাঠ্যক্রমে এবং ২০২৮ সালে থেকে কারিকুলামে পূর্ণাঙ্গভাবে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা বিষয় যুক্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান। ওই সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওইসভায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
এছাড়া গত মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬ সাংস্কৃতিক, কাবিং ও বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গান, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক, বিজ্ঞান, গণিত, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। মেধা বিকাশের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নেতিবাচক প্রচারণা গ্রহণ করা হবে না।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে ঘোষিত ১৮ জুন ঢাকায় এবং ১৯ জুন দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

