মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাবি ও দেড় বছর বয়সী ভাতিজাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর ইউসুফ মোল্লা (৪২) ও সহযোগী মো. সুমনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার শাহ আলী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩০ মে) রাতে উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ইউসুফ মোল্লা তার বড় ভাই আব্দুস ছালামের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আব্দুস ছালামের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমেনা খাতুন (২৮) ও তাদের দেড় বছর বয়সী ছেলে আসওয়াদ নিহত হন। আব্দুস ছালাম (৪০) গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন আব্দুস ছালাম। বাড়িতে পৌঁছানোর পর ছোট ভাই ইউসুফ মোল্লা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এর আগে ইউসুফ ঘরে প্রবেশ করে ভাবি আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদের ওপর হামলা চালান। ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা আহত আব্দুস ছালামকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ইউসুফ মোল্লা কাচারিপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান মোল্লার ছেলে। সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার সুমন বাচামারা গ্রামের পিন্টুর ছেলে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি ইউসুফ পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। সহযোগী আসামি সুমন হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইউসুফ মোল্লা পালিয়ে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, মূলত আসামির পরিকল্পনা ছিল বড় ভাইকে হত্যা করা এবং ভাবিকে ভয় দেখানো। তবে হাতুড়ির আঘাতে ভাবি ও ভাতিজার মৃত্যু হয় এবং বড় ভাই গুরুতর আহত হন। দুজন সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।
আরএআর
