বাগেরহাটে কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। একই সঙ্গে চাকরির খোঁজে আছেন আরও ২৬ হাজারের বেশি নাগরিক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর তথ্য বলছে, ১৬ লাখের বেশি জনসংখ্যার এই জেলায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’ বিষয়ে এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।
জানা যায়, বাগেরহাটে মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৬ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৫ জন বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। গৃহস্থালি কর্মে রয়েছেন ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৪ জন। জেলায় ৪৯ হাজার ৪২০ জন বেকার নাগরিক রয়েছেন। আর ২৬ হাজার ৪৫৮ জন বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সন্ধান করছেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাসিউল ইসলাম।
২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী, জেলায় ৪৬ হাজার ৮২৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কুটির শিল্প ৩৫ হাজার ৩৯১টি, ক্ষুদ্র ৫০৭টি, ছোট ১০ হাজার ৮৬৪টি, মাঝারি ৩৯টি এবং বৃহৎ ২৫টি। জেলার বেকার সমস্যা সমাধানে মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির ওপর জোর দেন বক্তারা।
অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ বাংলাদেমের চতুর্থ অর্থনৈতিক গণনা বা শুমারি। দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এটি ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, অর্থনৈতিক শুমারি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, সেবা ও উৎপাদন খাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে। তাই শুমারির কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে। যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টেকসই উন্নয়ন ও কার্যকর নীতি নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া সেমিনারে বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার, বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার সরকার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল বশির খান, বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
শেখ শামীম হাসান/আরকে
