বিজ্ঞাপন

হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি

রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ, আলু ছিটিয়ে বিক্ষোভ

রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ, আলু ছিটিয়ে বিক্ষোভ

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন আলুচাষিরা। এ সময় তারা সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানান। 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক আলুচাষি অংশ নেন। 

এর আগে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা আলুচাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহ-সভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত ও সদস্যসচিব আদিল মেরাজুল দুলু।

আলুচাষিরা অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকরা যোগসাজশ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভাড়া স্বাভাবিক রয়েছে। এই ভাড়া প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। 

তারা আরও বলেন, এমনিতেই বাজারে আলুর দাম কম, এর মধ্যে হিমাগার ভাড়া বাড়ানোয় চাষিদের লোকসান আরও বেড়েছে। 

আলুচাষি মজিবর মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৪ শতক জমিতে আলু চাষে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই জমি থেকে প্রায় তিন হাজার কেজি আলু উৎপাদন হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। উত্তোলন ও পরিবহন ব্যয় যোগ করলে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ টাকা ৩৩ পয়সা।

তিনি আরও বলেন, হিমাগার মালিকরা বস্তাপ্রতি সংরক্ষণ ভাড়া ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করায় প্রতি কেজি আলুতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ টাকা খরচ যুক্ত হচ্ছে। ফলে এক কেজি আলুর মোট উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় সাড়ে ৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। 

জেলা আলুচাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন প্রতি ৬০ কেজির বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় ৭ টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার ওপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পরামর্শে এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেটের আওতায় রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতিবছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সিগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা।

তৈয়বুর রহমান বলেন, সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হিমাগার সংরক্ষণ ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার পরিবর্তে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। যারা এসব আন্দোলন করছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট হিমাগার মালিকদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের কারণে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা শত শত যানবাহন আটকা পড়ে থাকে। ভ্যাপসা গরমে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে দুপুর ১টায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তাজহাট থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় আরও প্রায় আধা ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজের মূল্য কমানোর দাবিতে অবরোধ করেছিলেন।  দুপুর ১টায় তারা অবরোধ স্থগিত করেন। দেড়টার মধ্যে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর

বিজ্ঞাপন