সংসদে আর্থিক খাতের নিয়োগ ও বয়সসীমা নির্ধারণ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে বয়সসীমা শিথিল করা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পারফরমেন্সে দেখার অপেক্ষা করতেও বলেন অর্থমন্ত্রী। অপরদিকে, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারের সাম্প্রতিক নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। তবে সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আর্থিক খাতে কোনও রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী দুটি বিল পাস হয়। বিল দুটি পাসের ক্ষেত্রে আপত্তি জানায় বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোট।
এদিন সংসদে পাস হওয়া বিল দুটি হচ্ছে—‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬’ এবং ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬’।
বিদ্যমান আইনে, কোনও ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ করলে তাকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান বা কমিশনার হিসেবে নিয়োগের অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয় বা তিনি পদে বহাল থাকতে পারেন না। বিলটি পাস হওয়ায় বিধানটি বিলুপ্ত হচ্ছে।
অপরদিকে, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আইনে বলা আছে, ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে কোনও ব্যক্তি বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হতে পারেন না। বিলটি পাস হওয়ায় এই বিধানও বিলুপ্ত হচ্ছে।
দু’টি বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত পৃথক বিবৃতিতে বলা আছে, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে আইনগুলো সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। তবে বিরোধী দল বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো বিল দুটি পাস হওয়ায়। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের সমালোচনা করা হয়। সমালোচনা করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও।
বিল দুটি উত্থাপনের দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) উত্থাপন করলে বিল দুটি বিল নিয়েই সমালোচনা করে বিরোধী দল।
সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আমাদের অধিকার খর্ব করবেন না। আমাদের অধিকার আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে সংরক্ষণ হোক। এই বিল দুই’টিই স্থগিত করেন। যে দুইটার কাগজ আজকেই সরবরাহ করা হয়েছে। বেশিরভাগ সংসদ সদস্য আমরা এখানে নতুন এসেছি। আমরা বিধি আস্তে আস্তে রপ্ত করছি। বিধি মোতাবেক এই সংসদ চলবে এটা আমরা সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত। স্পিকারের চেয়ার থেকে বারবার আমাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা এটাকে রেসপেক্ট করি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ এই বিলটা কোনও সময়সীমার মধ্যে বন্দি নয়। এখানে সময়ের কোনও বাধ্যবাধকতা নাই। বিধিটা মানাই তো উচিত ছিল। আমরা তো তিনদিন আগে চেয়েও একদিন আগেও তো পেলাম না, মেটেরিয়ালস। জাস্ট এখন ডেস্কে এসে পেয়েছি।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার বক্তব্যে আমি পরিষ্কার করেছি এই বিল এই বিলগুলো কেন আনা হয়েছে। এই বিলটা যখন ৯৩তে হলো- সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন তখন গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। এখন গড় বয়স হচ্ছে ৭২ বছর। আপনি কি এই লোকগুলোকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? বাংলাদেশের এই নাগরিকগুলোকে, অভিজ্ঞ লোকগুলোকে কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখতে চান? অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশে যেখানে সাকসেসফুলি এই সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন অপারেট করছে সফলভাবে। যোগ্য ব্যক্তিদের কাজ করার ক্ষেত্রে সেটা (বয়সের সীমাবদ্ধতা) তো আমরা চাচ্ছি না। সেটা বিমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য সেটা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রযোজ্য।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি ফ্লোর নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ১৩৩ টা অধ্যাদেশ যেগুলা ছিল, যেগুলা বিল আকারে এসেছে এবং যেগুলা ল্যাপস (বাতিল) হয়ে গেছে, সেগুলাতে আমাদের অধিকার পুরাপুরি পাইনি। কারণ সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই ক্ষেত্রে ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক, আমাদেরকে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকতে হয়েছে। এখন সেরকম কোনো প্রেক্ষাপট ছিল না। এই দু’ইটা বিলের (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬’) ক্ষেত্রে আমাদের অধিকার কিন্তু খণ্ডন আপনার চেয়ার থেকে আপনি করলেন। খণ্ডনটা কিন্তু আপনার হাতেই হবে। দুই নম্বর হচ্ছে—যোগ্য লোকদেরকে যোগ্য জায়গায় স্পেস করে দেওয়া দরকার। কিন্তু একটা কথা আছে যে, বৃক্ষ তোমার পরিচয় ফলে। সরকারের দুই মাসের যে সমস্ত কার্যকলাপ বেসিক জায়গাগুলোতে হাত দেওয়া, প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা চলে (শেষ হয়ে গেছে) গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো আমি বেসিক জায়গায় বলেছি। নীতিগত যে জায়গা- বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে, যে কাজটা করা হয়েছে, সাবেক গভর্নরকে বিদায় দেওয়ার যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, জাতি এটা দেখেছে। এখান থেকে শুরু করে আমি বারবার এগুলো মেনশন করতে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো জনগণ এবং ডেমোক্রেসি কোনোটাই সাপোর্ট করে না।
যোগ্য লোক নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় না দিলে দেশ আগাবে কীভাবে? তো এইভাবে যদি যোগ্যতা সিলেকশন হয়- আমার প্রশ্ন- দেশ আগাবে কীভাবে? আমরা তো কার ইন্টেনশন কী সেটা দেখতে পারব না। এটা মনের ব্যাপার। এটা একমাত্র আল্লাহতালা জানেন। আল্লাহু ছাড়া এটা কেউ জানে না। আমরা দেখব তার প্রকাশটাকে। বাস্তবায়নটাকে কীভাবে এটা রিফলেক্ট করছে, সমাজে এই রিফলেশনে। আমরা শঙ্কিত সবকিছুকে পলিটিসাইজ, ক্ষেত্রবিশেষে গোষ্ঠী, পরিবার এগুলাকে প্রাধান্য দিয়ে আগাইলে এ দেশ তো আগাবে না। আমরা তো সবাই মিলে চাই যে দেশটা এগিয়ে যাক। এ পর্যন্ত সেরকম দৃশ্যমান কোনও কিছু আমাদের কাছে নেই।
বিরোধী দলীয় নেতার এই বক্তব্যের জবাব দিতে সংসদে আবার ফ্লোর নেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এই ধরনের আলোচনার কোনও সুযোগ ছিল না এখানে, সেটাও রুলস অফ প্রসিজারের বাইরে যে, উনারা প্রশ্ন তুলেছেন আমাদেরকে উত্তর দিতে হচ্ছে।
জবাবে সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিগত সরকারগুলো যদি প্রেসিডেন্ট দেখেন, যতবার সরকারে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ কমিশনের যতগুলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে, সবগুলো নন-পলিটিক্যাল। আমি ক্লিয়ারলি বলতে চাই এবং যেই কারণে বাংলাদেশে আর্থিক শৃঙ্খলা বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয় নাই। সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে, কোনো সময় শেয়ার বাজার লুটপাট হয় নাই? বিকজ বিএনপির এপয়েন্টমেন্টগুলো কোনো সময় পলিটিক্যাল কনসিডারেশননে হয় নাই। যোগ্য ব্যক্তিদের সেখানে দেওয়া হয়েছে সেই ধারা এই সরকার অব্যাহত রাখবে, আমি আপনাকে নিশ্চিতভাবে বলতে চাই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গভর্নর নিয়ে উনি (বিরোধী দলীয় নেতা) কিছু প্রশ্ন করেছেন। বাংলাদেশ গভর্নর কোনও দলের ব্যক্তি নয়, সে একটা দলের সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু তার যদি যোগ্যতা থাকে তার অ্যাপয়েন্টমেন্টের অসুবিধাটা কোথায়?
অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনি (বিরোধী দলীয় নেতা) বলছেন, ‘প্রুফ অব দ্য পুডিং ইজ ইন দ্য ইটিং’, তাই আসুন আমরা অপেক্ষা করি এবং দেখি। তিনি তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যদি দলীয় কোনও বিষয় বা প্রভাবের প্রমাণ দেন, তখন আপনি তা বলতে পারবেন। আর এখন পর্যন্ত (so far) আমরা তার যে পারফরম্যান্স দেখছি—। বিগত দিনে বিগত সরকারের সময় যখন গভর্নরের এইটা (বয়স) বাড়িয়েছে, তো সেই সময় আপনার কোনো আপত্তি তো করেননি। গভর্নরের এজ (বয়স) আমরা বাড়াইনি, এটা বিগত সরকার থেকেই বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দেওয়া হবে না। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করবেন আগামীতে ব্যাংকিং সেক্টরে বলেন, আর্থিক সেক্টরে বলেন কোনও পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হবে কিনা।
পাস হওয়া দুটি বিলের বিরোধিতা করে প্রশ্ন রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, কোনও বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কী এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগের বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, মাত্রই দুইটা আইন এখানে পাস করা হলো। আমরা জানি যে সরকারি দল এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই আইন পাস হবে। এটাই হাউজের বাস্তবতা। কিন্তু বিলের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বিমা কর্পোরেশন, উভয় আইনের বয়সের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিলের খসড়া দেখলে মনে হয় খুবই সংক্ষিপ্ত পরিবর্তন, কিন্তু এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
আখতার বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য আগে ৬৫ বছর এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে ৬৭ বছরের বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল। সরকার দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগের অজুহাতে এই সীমা তুলে দিচ্ছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, এটি কি কোনও বিশেষ ব্যক্তিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে, নাকি কোনও স্থায়ী পলিসির অংশ? যেভাবে ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেভাবে যদি বিশেষ কাউকে বসানোর জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়, তবে তা অর্থমন্ত্রীর ‘দক্ষ ও যোগ্য লোক’ তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার নিজেদের পছন্দের লোককে উপদেষ্টা করার জন্য প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়েছিল, যার খেসারত জাতিকে দীর্ঘকাল দিতে হয়েছে। শেয়ার বাজারের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় নিজেদের লোক বসানোর চিন্তায় যদি বয়সের সীমারেখা তুলে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।’
আখতার হোসেন দেশের অর্থ-সম্পদ যদি লুটপাটের কোনও পরিবেশ তৈরি হলে তার জন্য বর্তমান সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কনসার্ন জানিয়ে রাখলাম। সরকার বলছে সৎ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দেবে, এখন জাতি দেখার অপেক্ষায় আছে সামনের দিনগুলোতে এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিল দুটি উত্থাপনের দিন মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জনমত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়া নোটিশের উপর বক্ত্য রাখেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’ পাসের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে দেশের আমদানি-রফতানি পরিস্থিতি সংকটে এবং পুঁজিবাজারের ওপর মানুষের আস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারকে আস্থার জায়গায় ফেরাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৩ সালে যখন আইনটি করা হয়, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। বর্তমানে তা বেড়ে ৭২ বছরে দাঁড়িয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর জন্যই এই সংশোধন প্রয়োজন। বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের আকৃষ্ট করতে আমরা কাজ করছি।
একই বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিলে লুটপাটের শাস্তি মাত্র ৫ বছর জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা রাখায় আপত্তি জানান। এছাড়া বিএসইসি-র সদস্যদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন তিনি। তবে লিখিত প্রস্তাব না থাকায় ডেপুটি স্পিকার তা গ্রহণ করেননি।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সদস্য রুমিন ফারহানা যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি তার প্রতিটি কথার সাথে একমত। শেয়ার বাজারে অতীতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতেই আমরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি।
অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়তের নায়েব আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কোনও ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের দলীয় লোক দেবেন না। যদি এরকমই হয় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এখনকার গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের যিনি আছেন উনার একটা পরিচয় আছে, সেটা হচ্ছে বিএনপির যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হয়েছিল ওই কমিটির একজন মেম্বার ছিলেন তিনি। সুতরাং, তথ্যগত যে বিভ্রান্তিটা তৈরি হয়েছে এটা দূর হওয়া উচিত। উনি যদি এরকম করতে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের আলোকে ওনাকে গভর্নর থেকে বাদ দিয়ে এই সিদ্ধান্তের আলোকেই একজন যোগ্য গভর্নর নিয়োগ করা হোক। এটা আমার বক্তব্য।
এর প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু আগেই বলেছি দলকে সমর্থন করা মানে দলের লোক না। আর কোনও দলকে সমর্থন করে নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করা মানে দলের লোক হিসেবে কাজ করা নয় নিশ্চয়। আপনাদের দলের অনেক নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করেছেন, তারা আপনার দলের লোক না, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। আপনি এটাকে যদি দলীয় জায়গায় নিয়ে আসেন তাহলে দলের সমস্ত দলীয় নির্বাচনের কর্মকাণ্ডে তো অনেকেই অংশগ্রহণ করেছে। এই গভর্নরের বাইরে আরও হাজার হাজার শত শত লোক করেছে। নির্বাচনী যে কর্মযজ্ঞ এটা একটা বিশাল কর্মযোগ্য। এখানে যারা আপনার মতাবলম্বী আপনাকে সমর্থন করে তারা আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে। এটার অর্থ না যে উনি বিএনপির কোনও সদস্য, কারণ উনার কোনও সদস্য পদ নাই। প্রাথমিক সদস্য পদ নাই দলের কোনও সদস্যপদ নাই। আপনারা যদি এই স্কোপটাকে এর থেকে বেশি নিয়ে যান তাহলে কোনো জায়গায় কোনো লোক অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না বাংলাদেশে। এটা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।
এমএসআই/এমএন
