স্টিল শিল্পের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার করাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
সংগঠনটির অন্য ৪ দাবি হলো– বিক্রয় পর্যায়ে নির্ধারিত মূসক (ভ্যাট) এবং স্থানীয় ক্র্যাপের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে; ফেরো-অ্যালয়, রিফ্যাক্টরি সামগ্রী, স্পেয়ার পার্টস এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও শুল্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে; টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশের পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় ০.৬ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে এবং উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পখাতে পদ্মের চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করেই সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের স্টিল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মানে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করা।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, যা শিল্পমহল স্বাগত জানায়। ন্যূনতম করসংক্রান্ত ধারা ১৬৩-এর অধিকাংশ বিধান বিলুপ্ত করা, ধারা ২৯১ ও ২৯৩ অনুযায়ী আপিল ও হাইকোর্ট রেফারেন্সের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর জমার হার কমানো, বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বিদ্যুৎ বিক্রয়ের বিলের ওপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত ব্যবসা সহজীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ জন্য সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, এমন সময়ে স্টিল শিল্পের ওপর নতুন করে ভ্যাট, শুল্ক ও করের অতিরিক্ত বোঝা আরোপ করা হয়েছে, যখন খাতটি কঠিন ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশে স্টিলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি মেট্রিক টনের বেশি। ফলে অধিকাংশ কারখানা ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তীব্র আর্থিক চাপে ফেলেছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ মূল্য বাড়ানোর কারণে প্রতি মেট্রিক টন স্টিল উৎপাদনে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে বন্দর চার্জ, রিভার ডিউজ, ল্যান্ডিং চার্জ, পরিবহন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়ার কারণে আরও ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট, রেগুলেটরি ডিউটি, উৎসে কর ও অন্যান্য শুল্ক বৃদ্ধির ফলে প্রতি মেট্রিক টনে আরও ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হবে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মেট্রিক টনে মোট অতিরিক্ত চাপ ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উৎপাদন ও শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের সুফল পেতে সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, রেলপথ, মেট্রোরেল, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্টিলের চাহিদা বাড়বে, শিল্পকারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারও ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর থেকে অধিক রাজস্ব পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএন/বিআরইউ
