১১ জুন ২০২৬ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) যার আকার ৩ লাখ কোটি টাকার ও সামান্য অধিক নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বরাদ্দ।
দেশের অস্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকসমূহের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করার সাহসী পদক্ষেপ। দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম এই উন্নয়ন বাজেটের সফল বাস্তবায়ন যেমন অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি এর পেছনে রয়েছে নানাবিধ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির আকার বিগত অর্থবছরের মূল এডিপি (২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা) থেকে প্রায় ৩০% বেশি। এই বিশাল বরাদ্দের অর্থায়নের উৎসকে বৃহৎ ক্যাটাগরিতে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়-যার একটি হলো দেশীয় অর্থায়ন (জিওবি) যার পরিমাণ স্থির করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট এডিপির ৬৩.৩৩ শতাংশ।
আরেকটি হলো বৈদেশিক সাহায্য (প্রকল্প ঋণ ও অনুদান) যার পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা (মোট এডিপির ৩৬.৬৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য মোট বরাদ্দ ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা হলেও মূল এডিপি প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ এডিপি-বহির্ভূত বিশেষ উন্নয়ন খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা সরাসরি নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে এবং ৭৪ হাজার কোটি টাকা বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ‘ব্লক বরাদ্দ’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার উন্নয়ন কর্মসূচি বরাদ্দে সবচেয়ে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। এই দুই খাতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮৩,৫৫৭ কোটি টাকা যা এডিপির প্রায় ২৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।
দীর্ঘদিনের অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা এবং শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদের গুণগত মান বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এডিপিতে ন্যাশনাল অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান (এনএপি) এবং গ্রিন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি) স্ট্র্যাটেজির প্রতিফলন রয়েছে।
আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ৩.৫ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে যা অন্তর্ভুক্তি পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় এক সম্ভাবনা। স্থানীয় সরকার বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৬,২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো ও বিকেন্দ্রীকরণের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাবে এমনটি আশা করতে পারি।
বাজেটের সার্বিক মূল্যায়নে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকারের এই উন্নয়ন ব্যয় পরিকল্পনাটি মেগা-অবকাঠামো থেকে সরে এসে মানব সম্পদ (স্বাস্থ্য, শিক্ষা) এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য বরাদ্দে ৩০-৫০ শতাংশ ব্যাপক বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যদিও অর্থনৈতিক ভঙ্গুর পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে এই বিপুল বার্ষিক বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিছু বিষয় রয়েছে যার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞদের মতামতে উদ্বেগের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে সময় মতো অর্থ বিতরণ এবং ব্যাপক ও লক্ষ্যহীন ব্লক বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্দ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। ক্ষমতা হস্তান্তর এবং প্রশাসনিক রদবদলের সময়কালে আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা, নতুন সরকার কর্তৃক বিদ্যমান প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার কারণে বাস্তবায়নে বিরতি এবং পূর্ববর্তী সরকারের সাথে যুক্ত ঠিকাদারদের অনুপস্থিতি দেখা দেয়।
পূর্ববর্তী অর্থবছরে ব্যয়ের হার কম ছিল এবং বছরের প্রথম দশ মাসে বাস্তবায়ন হার ৪০ শতাংশের নিম্ন পরিসরে ঘোরাফেরা করেছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং ভূমি অধিগ্রহণের বাধার কারণে নিয়মিতভাবে বিলম্ব ঘটেছে। জিডিপির তুলনায় করের অনুপাত এখনো সীমিত থাকায়, মুদ্রাস্ফীতিমূলক ঋণের ওপর নির্ভর না করে সরকারের পক্ষে তার ৬৩% অভ্যন্তরীণ অংশের অর্থায়ন করা কঠিন হতে পারে।
এডিপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নতুন নীতিগত বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্দেশ্যে ‘ব্লক বরাদ্দ’-রাখার কারণে বিষয়টি তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ এতে স্বচ্ছতার অভাব থাকে এবং এটি প্রকল্পের প্রকৃত কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে বাধা সৃষ্টি করে। ১,২৭০টি নতুন প্রকল্প যুক্ত হওয়ায় ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তাছাড়া, মন্ত্রণালয়গুলোর বিশেষ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের স্বচ্ছভাবে তহবিল ব্যয় ও বিতরণের সক্ষমতা একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নতুন নীতিগত বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্দেশ্যে ‘ব্লক বরাদ্দ’-এর অধীনে রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন, কারণ এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এটি প্রকল্পের প্রকৃত কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে বাধা সৃষ্টি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছে, যার ফলে অর্থবছরের প্রথমার্ধে এর বাস্তবায়নের হার প্রায়শই ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন ১৭.৫ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বার্ষিকভাবে তা ৬৭.৮ শতাংশ অতিক্রম করতে হিমশিম খাচ্ছে।
আরও পড়ুন
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন ব্যয়কে পঙ্গু করে দেয়। মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো অর্থবছরের প্রথমার্ধে তহবিল ব্যবহারে নিয়মিতভাবে বিলম্ব করে যার ফলে শেষ প্রান্তিকে এক উন্মত্ত ও শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো দেখা দেয়। বছর শেষের এই তাড়াহুড়ো নির্মাণের গুণগত মান হ্রাস করে, সরকারি তহবিলের অব্যবস্থাপনা ঘটায় এবং সংস্থাগুলোকে প্রায়শই সংশোধিত এডিপি থেকে বাজেট কর্তন করতে বাধ্য করে।
বৃহৎ আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা মৌলিকভাবে দুর্বল রয়ে গেছে। ধীরগতিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং জটিল ভূমি অধিগ্রহণের মতো বিষয়গুলোর কারণে ব্যয় ও সময়সীমা দীর্ঘায়িত হয়। তদারকির দায়িত্বে থাকা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রয়োগ ক্ষমতার অভাব রয়েছে এবং এর সুপারিশগুলো প্রায়শই বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো দ্বারা অগ্রাহ্য করা হয়।
চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ এবং স্বাস্থ্য খাতের মতো বিভাগগুলো তাদের বরাদ্দের ৭ শতাংশের কম নিয়মিতভাবে ব্যবহার করে আসছে, যার প্রধান কারণ হলো আমলাতান্ত্রিক দ্বন্দ্ব, ক্রয়-সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং জবাবদিহিতার অভাব। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্দ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। ক্ষমতা হস্তান্তর এবং প্রশাসনিক রদবদলের সময়কালে আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা, নতুন সরকার কর্তৃক বিদ্যমান প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার কারণে বাস্তবায়নে বিরতি এবং পূর্ববর্তী সরকারের সাথে যুক্ত ঠিকাদারদের অনুপস্থিতি দেখা দেয়।
বিদেশি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ধীর প্রক্রিয়াকরণের কারণে অর্থ বিতরণে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে। অদক্ষ বাস্তবায়ন কেবল প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেই ব্যর্থ হয় না, বরং প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় এবং প্রতিশ্রুতি ফি বৃদ্ধি পায়।
এই চক্র ভাঙতে হলে পদ্ধতিগত সংস্কার আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাধীন ও কঠোর প্রকল্প যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে পেশাদারী রূপ দেওয়া এবং পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ক্ষমতায়ন করা, যাতে মূল্যায়নের ভিত্তিতে সরাসরি সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এবার কথা বলা যাক বর্তমান বাজেট বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিগুলো কী? প্রথমে যে বিষয়টা সবার আগে মাথায় আসে সেটা হলো বাস্তবায়ন সক্ষমতার চরম ঘাটতি। বাজেট উপস্থাপনায় অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, বিগত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৪০.৭ শতাংশ।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া হুট করে এডিপির আকার ৩০% বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সক্ষমতা না বাড়িয়ে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করলে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পুরোনো চক্র পুনরায় দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরবরাহজনিত সংকট। দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ৯.৪২ শতাংশ) মূলত সরবরাহজনিত। এই পরিস্থিতিতে ৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল সরকারি ব্যয় যদি দ্রুত উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারে, তবে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি ৭.৫%-এর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তৃতীয়ত বেসরকারি বিনিয়োগে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব। বাজেটের মোট ঘাটতি ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা, যা মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার যদি ব্যাংক থেকে এত বড় অংকের ঋণ নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ (যার লক্ষ্যমাত্রা ৯.৪%) চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ (জিডিপির ২১.৩ শতাংশ) স্থবির হয়ে পড়তে পারে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে ব্যাহত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
চতুর্থত বৈদেশিক সহায়তার ব্যবহারে ধীরগতি। এডিপিতে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রকল্প পরিচালকদের অদক্ষতার কারণে ‘পাইপলাইনে’ থাকা বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের গতি অত্যন্ত ধীর। যথাসময়ে এই অর্থ ব্যবহার করতে না পারলে সরকারের ওপর দেশীয় উচ্চ সুদের ঋণের চাপ আরও বাড়বে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে উত্তরণের উপায় হিসেবে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ বিবেচনা করা যেতে পারে। স্বাধীন প্রকল্প মূল্যায়ন সেল গঠন করা। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ করে অর্থনৈতিক রিটার্ন ও সামাজিক উপযোগিতা বিবেচনা করে প্রকল্প অনুমোদন করতে হবে। বাস্তবায়ন মনিটরিং জোরদার করা।
আইএমইডি’র তদারকি সক্ষমতা আধুনিকায়ন করতে হবে। ই-জিপি’র শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার দুর্নীতি রোধ করা আবশ্যক। তাছাড়া ব্যাংক ঋণের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা ও ব্যবস্থাপনা করা। ঘাটতি অর্থায়নে দেশীয় ব্যাংকের ওপর চাপ না বাড়িয়ে কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে।
...বাজেটের সাফল্য এর আকারের ওপর নয়, বরং গুণগত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে। সরকার যদি সুশাসন নিশ্চিত, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারে, তবে এই ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর উল্টো বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একটি প্রকল্পের জন্য একজন স্থায়ী ‘ডেডিকেটেড’ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি বাজেট নিঃসন্দেহে বৈষম্যহীন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার একটি ইতিবাচক রূপরেখা।
তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না—বাজেটের সাফল্য এর আকারের ওপর নয়, বরং গুণগত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে। সরকার যদি সুশাসন নিশ্চিত, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারে, তবে এই ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর উল্টো বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ড. মুহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
