World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

গুয়াদালাজারা স্টেডিয়াম যেন এক ‘জীবন্ত আগ্নেয়গিরি’

গুয়াদালাজারা স্টেডিয়াম যেন এক ‘জীবন্ত আগ্নেয়গিরি’

২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যে কোনো আসরের চেয়ে একেবারে আলাদা। সবচেয়ে বেশি দল নিয়ে হতে চলেছে এবারের প্রতিযোগিতা। প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশ। ৩৯ দিনে ১০৪ ম্যাচ হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে—যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি, মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি স্টেডিয়ামে।

মেক্সিকোর জালিসকোর জাপোপানে বিখ্যাত ক্লাব শিভাসের হোম গ্রাউন্ড এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু গুয়াদালাজারা স্টেডিয়াম যা বাণিজ্যিকভাবে এস্তাদিও আক্রন নামে পরিচিত। মেক্সিকান ফুটবলের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয় এটি। এই শহরে ফুটবল যেন সবার জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এটি কেবল একটি সাধারণ খেলার মাঠ নয়। এর সবুজ পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু চমকপ্রদ গল্প।

স্টেডিয়ামটির সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে এর অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীতে। ফ্রেঞ্চ ডিজাইনার জঁ-মারি মাসো এবং ড্যানিয়েল পুজেত এটিকে এমনভাবে ডিজাইন করেছেন যা বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। স্টেডিয়ামের পুরো মূল কাঠামো বা গ্যালারিটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা একটি কৃত্রিম পাহাড় দিয়ে।

স্টেডিয়ামের সাদা রঙের ৩২০ ডিগ্রির ছাদটি এমনভাবে ওপর থেকে ঝুলে আছে, দূর থেকে দেখলে মনে হবে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে সাদা মেঘ বা ধোঁয়া বের হচ্ছে। দর্শকরা যখন টানেল দিয়ে ভেতরে ঢোকেন, তখন তাদের মনে হয় তারা কোনো জীবন্ত আগ্নেয়গিরির গর্ভে প্রবেশ করছেন!

২০১০ সালের ৩০ জুলাই এই স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন ম্যাচ। মেক্সিকোর তরুণ তারকা জাভিয়ের হার্নান্দেজ তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছিল তার শৈশবের ক্লাব শিভাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যে।

চুক্তির অংশ হিসেবে চিচারিতো প্রথমার্ধে খেলেন তার পুরোনো ক্লাব শিভাসের হয়ে এবং এই স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি তিনিই করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে তিনি জার্সি বদলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামেন!

স্টেডিয়ামটি যখন তৈরি করা হয়, তখন বাইরের পাহাড়টি সবুজ আসল ঘাসে ঢাকা থাকলেও মূল পিচ বা মাঠটি তৈরি করা হয়েছিল শতভাগ কৃত্রিম ঘাস দিয়ে। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই মাঠে বল লাফানোর ধরন ও খেলোয়াড়দের ইনজুরির ঝুঁকি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি অনেক বড় বড় তারকা ফুটবলার এখানে খেলতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে ২০১২ সালে প্রবল চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ বিপুল অর্থ খরচ করে কৃত্রিম ঘাস তুলে ফেলে এবং প্রাকৃতিক আসল ঘাস স্থাপন করে।

২০২৬ বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়ামের টিকিট কাটেন, তবে কোথাও এস্তাদিও আক্রন নামটি দেখা যাবে না। কারণ ফিফার একটি কঠোর নিয়ম রয়েছে—বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন কোনো স্টেডিয়ামের নামের সাথে কর্পোরেট স্পন্সরের নাম রাখা যাবে না। এই নিয়ম মানতে গিয়েই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল নথিতে এর নাম দেওয়া হয়েছে একদম সাধারণ-গুয়াদালাজারা স্টেডিয়াম।

মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী এই ভেন্যুটি আসন্ন বিশ্বকাপে মোট ৪টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজন করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুন, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। প্রায় ৪৮,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই ‘আগ্নেয়গিরি’ স্টেডিয়ামে মেক্সিকান ভক্তদের গর্জন দেখার মতো এক দৃশ্য তৈরি করতে যাচ্ছে।

এই ভেন্যুতে হবে বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ। মেক্সিকো তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে এখানে।

১১ জুন: দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক রিপাবলিক

১৮ জুন: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া

২৩ জুন: কলম্বিয়া বনাম ডিআর কঙ্গো

২৬ জুন: উরুগুয়ে বনাম স্পেন

এফএইচএম