Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা এই বাজেট : গোলাম পরওয়ার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার -যুগান্তর

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে অধিক ঋণনির্ভর, উচ্চাভিলাষী, অবাস্তবায়নযোগ্য লুটপাটের বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি ‘বড় বাধা’ দেখছে দলটি। এগুলো হলো-গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়; লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে যাবে। তিনি সরকারের প্রতি বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানান।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট-এটা কোথা থেকে পূরণ করা হবে?

তিনি আরও বলেন, এত বড় ঘাটতি বাজেটের ব্যয় সংকুলানে ব্যাংক লোন করা হবে, তাতে আমাদের বিনিয়োগ, বেসরকারি বিনিয়োগ তো অটোমেটিক্যালি কমে যাবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত কোনো কাঠামো সরকার দেখাতে পারেনি-এমন অভিযোগ করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, কোথা থেকে ঘাটতি পূরণ করা হবে? যে সোর্সগুলো দেখানো হয়েছে তাতে রাজস্ব আয় করতে গেলে যে কর কাঠামো লাগে, দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসন লাগে, সেগুলো কিছুই নেই। কর বৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভাষার ছলচাতুরীতে উনারা বলেছেন যে আমরা করের উৎস বাড়াচ্ছি। বাস্তবে করজাল তৈরি করে নাগরিক জীবনে এটার যে চাপ, সেটাকে উনারা শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমেই চালাকি করে কর বৃদ্ধির জায়গাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকারের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে তিনি ‘ফাঁকা বুলি’ ও ‘চটকদার সিদ্ধান্ত’ হিসাবে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগাভাগি হয়ে যায় এবং প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার ঘোষিত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জানান, জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে, যেখানে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। জামায়াত করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম