Logo
Logo
×

শেষ পাতা

বিএনপির প্রতিশ্রুতির বাজেট

পণ্যমূল্যে ঝাঁকুনি নেই বাজারে

স্বস্তি ও প্রত্যাশার মাঝামাঝি সাধারণ মানুষ

ইয়াসিন রহমান

ইয়াসিন রহমান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পণ্যমূল্যে ঝাঁকুনি নেই বাজারে

প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার পর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে উল্লম্ফন দেখা গেলেও এবার তেমন কোনো ঝাঁকুনি তৈরি হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাজারবান্ধব বলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বাজেটে কিছু পণ্যে শুল্ক-কর বাড়ানো হলেও বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পণ্যের দাম বাড়েনি, যেটা অন্যবার দেখা যায়। একই ভাবে যেসব জিনিসের দাম কমানো হয়েছে, সেখানেও এর কোনো প্রভাব নেই। ফলে স্বস্তি ও প্রত্যাশার মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটে যেসব পণ্যের মূল্য কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন ও বাজারে কার্যকর করতে হলে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কারণ বাজারে এমনিতেই সব পণ্যের উচ্চমূল্য।

তাই শুধু বাজেটের সিদ্ধান্ত নয়, বাজার তদারকিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবেন।

এদিকে বাজেটে ধান, চাল ও হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হলেও পরদিন শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিমসহ মুদি পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা। পাইজাম ও বিআর ২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা। মোটা চালের মধ্যে প্রতি কেজি স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা। সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ ও বোতলজাত সয়াবিন ২০০ টাকায়। মসুর ডালের মধ্যে প্রতি কেজি বড় দানা ১০৫, মাঝারি দানা ১২০ ও ছোট দানা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা বাজেট ঘোষণার আগেও একই দামে বিক্রি হয়েছে।

খুচরা প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা। যা ঈদের পর থেকে একই দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৬০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। পাশাপাশি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। সঙ্গে আমদানি করা রসুন কেজিপ্রতি ১২০-১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। মান ভেদে প্রতি কেজি দেশি ও আমদানি করা আদা ১৩০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা।

পাশাপাশি খুচরা বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৫০ টাকা। প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবছর বাজেট ঘোষণা করার পরদিন এমনকি সেদিন থেকেই সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। এবার বাজারে সেই চিত্র নেই। বাজেট ঘোষণার আগে যে দাম ছিল সেই দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এটা এক প্রকার স্বস্তি। তবে বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমানো হয়েছে, বাজারে সেসব পণ্যের দাম কমেনি। তাই এই মূল্য পরিস্থিতি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বেশকিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ ও হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণার পরও খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। তাই সাধারণ ভোক্তা যেন বাজেটের সুবিধা পান, সেজন্য বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, বাজারে পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে নিয়মিত তদারকি পরিচালনা করা হচ্ছে। সঙ্গে বাজেটে যে সব পণ্যের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম