Logo
Logo
×

রাজধানী

আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই: কব্জি কাটা গ্রুপের ৫ জন গ্রেফতার

Icon

হাজারীবাগ ও তেজগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম

আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই: কব্জি কাটা গ্রুপের ৫ জন গ্রেফতার

গ্রেফতাররা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আদাবরে দোকানে ঢুকে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই ও দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদসহ (৩৩) পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। 

বুধবার (১৭ জুন) ভোরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-২ এর সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-২ এর একটি দল।

গ্রেফতার অন্যরা হলেন- রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তৌসিফ (৩০) এবং মো. তরিকুল ইসলাম (২৫)। 

তিনি বলেন, কব্জি কাটা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদসহ পাঁচজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পীরেরবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রুপের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আদাবরের একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে বিকাশ এজেন্ট শফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে তার কাছে থাকা তিন লাখ টাকা এবং বিকাশ লেনদেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের সদস্যরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুলকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শফিকুল দোকান খুলে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই চার থেকে পাঁচজন যুবক চাপাতি হাতে দোকানে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা শফিকুলের ডান হাতে কোপ দেয়। পরে দোকানে থাকা নগদ টাকা ও বিকাশের মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ জানতে পারে, ছিনতাইয়ে জড়িত কয়েকজন সদস্য ঢাকা উদ্যান এলাকার ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনে একটি আস্তানায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিকালে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে দেশিয় অস্ত্র ও ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা প্রথমে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে। পরে এসআই তরুণ কুমারকেও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এসময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালালে চোরা রুবেল ও কানা আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সময় কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আদাবর এলাকায় ছিনতাই, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সোমবার রাতেও আদাবর ১০ নম্বর বালুর মাঠ এলাকায় কয়েকটি গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই একই এলাকায় অস্ত্রের মুখে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদাবরের এক বাসিন্দা জানান, এলাকায় কব্জি কাটা গ্রুপ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। একসময় গ্রুপটির নেতৃত্ব দিতেন আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ার। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বাল্যবন্ধু আবু সাঈদ। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রুপটির ১৫ থেকে ২০ সদস্য সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কব্জি কাটা আনোয়ারের ভাই দেলোয়ার, চোরা রুবেল, টানা আমির, শাহিন, পিকআপ রুবেল, মাওরা সোহেল, রানা, আরিফ, লিটন, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত আপন, মেহেদী ও সুজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কব্জি কাটা গ্যাং আদাবর ১০ নম্বর, ১৭ নম্বর, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং এবং মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান, নবীনগর, চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, গ্রুপটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম