Logo
Logo
×

সারাদেশ

শিশু নিছামনি হত্যা

চার বন্ধু মিলে গণধর্ষণ, নিস্তেজ হয়ে গেলে নদীতে ফেলে দেয়

Icon

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

চার বন্ধু মিলে গণধর্ষণ, নিস্তেজ হয়ে গেলে নদীতে ফেলে দেয়

আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আরিফ ও রাকিব

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে পরিকল্পিতভাবে চার বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করে। পরে নিস্তেজ হয়ে গেলে ওই শিশুকে নদীতে ফেলে দেয় তারা। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা জানায় আসামি আরিফ ও রাকিব।

মঙ্গলবার বিকালে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটি গ্রামের চার বন্ধু আরিফ, রাকিব, মারুফ, সায়েম গত কয়েক দিন ধরে যেকোনো একজনকে ধর্ষণ করার পরিকল্পনা করছিল। তারই অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় একই গ্রামের শিশুকে (৫) কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে কংশ নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তারা চার বন্ধু মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে রক্তাক্ত অবস্থায় কংশ নদীতে ফেলে দেয়।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির লাশ নদী থেকে তুলে গোসল করানোর সময় ধর্ষণের আলামত পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম টুটনকে জানায় তার পরিবার। চেয়ারম্যান পুলিশকে জানালে রাতেই ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম নিজে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসেন। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার তথ্যমতে বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত চার বন্ধুর মাঝে একজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, একজন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং অপর দুজন নির্মাণ শ্রমিক।

শিশু নিছামনি হত্যায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এত ছোট একটি শিশুকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার বিচার দাবি করছেন এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে এলাকার সচেতন মহল বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া এবং পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম। তারা দুজনই দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বুধবার ওই শিশুর বাড়িতে যান। তিনি শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমি ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। শিশু রামিসা হত্যার বিচারের মতো প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে।

পরিদর্শন করে শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম