উচ্চ রক্তচাপ মোকাবিলা করুন একসঙ্গে
অধ্যাপক ডা. মো. তৌফিকুর রহমান
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি। একে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই এটি শরীরের ভেতরে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির জটিলতা তৈরি করে। শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ।
* উচ্চরক্তচাপ কেন চিন্তার কারণ
বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বিশাল অংশ উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন, যাদের অর্ধেকই জানেন না যে তাদের এ সমস্যা আছে। বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে উচ্চরক্তচাপ শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। সঠিক সময়ে এটি শনাক্ত না হলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
* কেন বলা হয় ‘আমরা সবাই একসঙ্গে’
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ শুধু চিকিৎসকের একার কাজ নয়। এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব-
▶ ব্যক্তিগত পর্যায় : নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।
▶ পারিবারিক পর্যায় : খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় একে অপরকে উৎসাহিত
করা।
▶ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় : কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিনামূল্যে রক্তচাপ পরীক্ষার সুযোগ রাখা এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
* জীবনযাত্রায় পরিবর্তন : নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিচের অভ্যাসগুলো অত্যন্ত জরুরি-
▶ লবণ নিয়ন্ত্রণ : প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ না করা।
▶ সুষম খাবার : প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
▶ শারীরিক পরিশ্রম : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করা।
▶ মানসিক প্রশান্তি : দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, তাই পর্যাপ্ত ঘুম ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা প্রয়োজন।
* শনাক্তকরণই প্রথম পদক্ষেপ (উচ্চরক্তচাপ শনাক্ত জরুরি)
আপনার হাতের লেখা নোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ আছে-‘উচ্চরক্তচাপ শনাক্ত জরুরি’। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ যখন অসুস্থ বোধ করে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
* সম্মিলিত ভূমিকা ও সচেতনতা
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত ভূমিকা থাকলে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুর হার অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আজ থেকেই ‘একসঙ্গে’ কাজ শুরু করার শপথ নিতে হবে।
উচ্চরক্তচাপ কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, তবে সঠিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আসুন, আমরা নিজের রক্তচাপ জানি, পরিবারের অন্যদের উৎসাহিত করি এবং একটি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী সমাজ গড়ে তুলি। কারণ, আমরা সবাই একসঙ্গে থাকলেই জয় সম্ভব।
লেখক : প্রফেসর, কার্ডিওলজি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICVD), ঢাকা।
