ঈদের নাটকে পরিবর্তনের আভাস!
আনন্দনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রোজার ঈদে সমালোচনার ভিড়েও পারিবারিক গল্পের বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকের নজর কেড়েছিল। সেই রেশ কুরবানির ঈদেও ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। শুধু তাই নয়, এবার ঈদের আগে থেকেই বেশ কয়েকটি নাটক ছিল আলোচনায়। সেই তালিকায় থাকা কিছু নাটক প্রচার হয়েছে, কিছু রয়েছে প্রচারের অপেক্ষায়। এরইমধ্যে প্রচার হওয়া একাধিক নাটক দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। অনেকেই নির্মাতাদের নির্মাণ এবং গল্পে বৈচিত্র্য নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করছেন নানা মাধ্যমে।
একদিকে মোশাররফ করিমের ‘ভাত হাসান’ কিংবা রাশেদ সীমান্তের ‘মোগো বাড়ি বরিশাল’-এর মতো কমেডি ও হাসির নাটক দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখছে। অন্যদিকে নাটক ‘সুখবিলাস’, ‘ওয়ারিশ’, ধারাবাহিক ‘মা বাবা ভাই বোন’ এবং জোভান-তটিনীর টেলিফিল্ম ‘তোমাদের গল্প-২’ ও তৌকির আহমেদ-মম’র ‘জহুরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’ মধ্যবিত্তের জীবনের কান্না, হাহাকার ও পারিবারিক আবেগকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
রোমাঞ্চ বা থ্রিলারের খোঁজে থাকা দর্শকদের জন্য বড় চমক হিসাবে এসেছে অভিনেতা অপূর্বের নিজস্ব ভাবনায় ও তানিম রহমান অংশুর পরিচালনায় নির্মিত বিশেষ নাটক ‘অচেনা আমি’। এ ছাড়া আরশ খান-তাসনুভা তিশার ‘ভালোবেসে কাছে আসা’, অপূর্ব-নেহার ‘মায়াপখি’ ইয়াশ রোহান-তানিয়া বৃষ্টির ‘লাভ লক’, অপূর্ব, সাফার ‘মেঘলা মেঘলা দিন’ মুশফিক আর ফারহান-কেয়া পায়েলের ‘ডুব’, জোভান-কেয়ার ‘পাল্লু বিল্লুর বিয়ে’ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে মুক্তি পাওয়া সীমান্ত পেরোনো প্রেমের অরিজিনাল ওয়েব ফিল্ম ‘তাজমহল’-এ দর্শকরা খুঁজে পেয়েছেন রোমান্সের পাশাপাশি টানটান উত্তেজনা। ছোটপর্দার গল্পে বৈচিত্র্য এবং গল্প বলার ধরনের এ পরিবর্তন প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব বলেন, “ঈদের নাটক মানেই আগে দর্শকরা ভাবতেন শুধু হাসাহাসি। কিন্তু এবার সেই ট্রেন্ড পুরো বদলে গেছে। শুধু আমার অভিনীত ‘অচেনা আমি’ নাটকে নয়, ঈদের অনেক নাটকেই দর্শকরা যেমন রোমান্স পাচ্ছেন, ঠিক তেমনই প্রতি মুহূর্তে একটা থ্রিল অনুভব করছেন। এ পরিবর্তন অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।”
অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নীহা, যিনি এবারের ঈদে একাধিক ভিন্নধর্মী জনরার নাটকে কাজ করেছেন, তিনি বলেন, ‘ঈদে দর্শকরা পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে টিভি দেখতে বসেন। তাই আমাদের গল্পগুলোয়ও হাসি ও কান্নার একটা সুন্দর পারিবারিক ব্যালেন্স রাখতে হয়েছে। দর্শকরা যাতে নাটক দেখে কখনো হাসেন, আবার গল্পের আবেগে চোখে পানি চলে আসে, এমন জীবনমুখী কাজই এবার বেশি হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এবার ঈদে নাটকগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন আলো নিয়ে আসবে। এরইমধ্যে প্রচার হওয়া বেশকিছু নাটক কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান বলেন, ‘আমি কিন্তু সবসময়ই বলে আসছি গল্প ভালো হলে এবং সেখানে বৈচিত্র্য থাকলে দর্শকরা সেই কাজটি অবশ্যই দেখেন। গত ঈদের মতো এবারও কিন্তু তারা তা প্রমাণ করছেন। দেরিতে হলেও যে নির্মাতারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এটা অবশ্যই ভালো দিক।’ অভিনেত্রী তটিনী বলেন, ‘গল্পে ভিন্নতা না থাকলে কাজের শিল্পীর যেমন একঘেয়েমি চলে আসে তেমনি দর্শকরাও বিরক্ত হন। তবে এবার সেই ধারা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পেরেছি।’
নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিন নাটকের এ ট্রেন্ড পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলেন, ‘উৎসবের সময় দর্শক বৈচিত্র্য খোঁজেন। এবার সবাই সেটা মাথায় রেখে কাজ করেছেন। ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ ধারাবাহিকতা রাখতে হলে মানসম্মত চিত্রনাট্য এবং পর্যাপ্ত লগ্নি প্রয়োজন।’ নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘ঈদের নাটকে দর্শক সবসময় নিজেদের মাটির গল্প, পরিবারের টানাপোড়েন দেখতে পছন্দ করেন। আমরাও সেই রূপটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তবে স্পন্সর এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক সময় নাটকের গতি নষ্ট হয়, যা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত।’
তবে নাট্যাঙ্গনের এ বৈচিত্র্যময় রূপকে স্বাগত জানাচ্ছেন নাট্য সমালোচকরা। তাদের মতে দর্শকদের রুচি এখন অনেক উন্নত। তারা আর একঘেয়েমি পছন্দ করেন না। এ ঈদে নির্মাতারা দর্শকদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পেরেছেন। এবার ঈদের নাটকের ভিউ এবং টিআরপি দুটিই এখন পর্যন্ত ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। যদিও সাফল্য-ব্যর্থতার পুরো অঙ্ক মেলাতে আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে।
