Logo
Logo
×

পোশাকশিল্প

টেডএক্স উত্তরা ২০২৫: যেখানে সম্ভাবনার জন্ম

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৮ পিএম

টেডএক্স উত্তরা ২০২৫: যেখানে সম্ভাবনার জন্ম

‘পাওয়ার অব পসিবিলিটি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হলো টেডএক্স উত্তরা ২০২৫।

‘পাওয়ার অব পসিবিলিটি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হলো টেডএক্স উত্তরা ২০২৫। গত ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (BUFT)-এর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই ইভেন্টে জীবনের ভিন্ন ভিন্ন পথ, অভিজ্ঞতা ও ভাবনার মানুষেরা এক মঞ্চে মিলিত হন। স্থানীয় গল্প, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও বৈশ্বিক চিন্তার সমন্বয়ে টেডএক্স উত্তরা ২০২৫ হয়ে ওঠে সম্ভাবনার এক বহুমাত্রিক সংলাপের প্ল্যাটফর্ম।

শিকড়েই লুকিয়ে ভবিষ্যৎ

ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি শেফ কিশোয়ার চৌধুরী—দুই ভিন্ন পেশার এই দুই নারীর বক্তব্যে উঠে আসে একই বার্তা: সম্ভাবনা দূরে নয়, বরং নিজের শিকড়েই নিহিত। আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত হলেও তাদের কাজের অনুপ্রেরণা এসেছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে।

দেশীয় পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিবি রাসেল প্রশ্ন তোলেন উন্নয়নের প্রচলিত ধারণা নিয়ে। তার বক্তব্যে ফ্যাশন কেবল সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি শ্রম, মর্যাদা ও ইতিহাসের স্বীকৃতি। তাঁত, গামছা ও লোকজ কারুশিল্পকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে শেফ কিশোয়ার চৌধুরী বাঙালি রান্নার মসলা, গন্ধ ও স্মৃতির গল্পে তুলে ধরেন—এক থালা খাবারও কীভাবে একটি সংস্কৃতির শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

দেয়ালের ভেতর জন্ম নেওয়া আলো

চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী এবং সংগীতশিল্পী আসিফ ইকবাল (আইয়া লেমনস্কাই) তাদের বক্তব্যে প্রমাণ করেন—শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা বন্দিত্ব সৃষ্টিশীলতাকে থামাতে পারে না।

হাসপাতালের জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ অমিতাভ রেজার সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় গিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সাহসিকতার গল্প শোনান।

অন্যদিকে আসিফ ইকবাল কারাগারের অন্ধকার দেয়ালের ভেতর সুর ও সংগীতের আলো জ্বালানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মাত্র দুই সপ্তাহের সাজা ছয় বছরে রূপ নিলেও সেই কারাবাসের মধ্যেই তিনি গড়ে তোলেন ‘কাকতাল’ ব্যান্ড।

ভয়ের মধ্যেও নীরব প্রতিবাদ

কার্টুনিস্ট মোর্শেদ মিশু এবং আইনজীবী মানজুর আল মতিন তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন ভয় ও ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা। কঠোর নজরদারির মধ্যেও শিল্প ও আইনের মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা খোঁজার গল্প বলেন তারা। তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নীরব কিংবা সরব প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরির আহ্বান জানান বক্তারা।

ছোট সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন

মার্কিন সার্জন স্কট লেকম্যান, লেখক বাদল সৈয়দ, মার্কেটিং কনসালট্যান্ট অমিতাভ মিত্র, গ্রামীণ হেলথ-টেক লিমিটেডের সিইও আহমেদ আরমান সিদ্দিকী এবং শিশু মানবাধিকার কর্মী ফাতিহা আয়াত—এই বক্তাদের সম্মিলিত বক্তব্যে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় বিপ্লবের প্রয়োজন হয় না। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া ছোট ছোট সিদ্ধান্তই হতে পারে বড় পরিবর্তনের সূচনা। 

এ ছাড়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের আহ্বান জানান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

স্থানীয় গল্প, বৈশ্বিক ভাবনা

টেডএক্স উত্তরা ২০২৫ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন লিড অর্গানাইজার সুমাইয়া কবির এবং কো-অর্গানাইজার ইমরুল আহসান। তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের ভিন্নভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে, আইডিয়া বিনিময়, শেখা এবং নেটওয়ার্কিংয়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শুরু হওয়া টেডএক্সের স্বাধীন উদ্যোগ আজ স্থানীয় গল্পগুলোকে বৈশ্বিক আলোচনায় যুক্ত করার সুযোগ করে দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় টেডএক্স উত্তরা ২০২৫ প্রমাণ করেছে—স্থান যতোই স্থানীয় হোক, ভাবনা কখনো সীমাবদ্ধ নয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম