গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ
পোশাকশিল্প ব্যাংক থেকে চাহিদামতো ঋণ পাচ্ছে না
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের পোশাকশিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ নবায়ন করলেও চাহিদা অনুযায়ী চলতি মূলধন দিচ্ছে না। ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান দেওয়ার প্রস্তাব সমিতির। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের জন্য ব্যাংক খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএর প্রতিনিধিদল এসব প্রস্তাব দিয়েছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রতিনিধিদলটি তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নীতি সহায়তার আওতায় নগদ প্রণোদনার হার বাড়ানোর দাবি জানান। কিছু খাতে প্রচলিত প্রণোদনার হার বহল রাখার প্রস্তাব করেন। বিশেষ নগদ সহায়তার হার দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।
প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ও নিয়মিত ছাড় করার প্রস্তাব দিয়ে তারা বলেন, তা না হলে অনেক কারখানা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাবে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জবাবে গভর্নর বলেন, প্রতিমাসের নগদ সহায়তার অর্থ প্রতিমাসেই ছাড়ের চেষ্টা করা হবে।
সভায় বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা বলেন, অনেক ব্যাংক ঋণ নবায়ন করলেও চাহিদা অনুযায়ী চলতি মূলধনের জোগান দিচ্ছে না। ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ দুই-ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া এ শিল্পকে সহায়তা করতে প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুপারিশ করা হয়।
জবাবে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগদ সহায়তার বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এখন থেকে কোনো আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতিমাসের নগদ সহায়তার অর্থ ওই মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে জমাকৃত স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা জানান, তারল্য সংকটে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।
জবাবে গভর্নর এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস দেন।
