ড্র্যাগ কুইনদের নিয়ে হলিউডের বাজি
আনন্দনগর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজনৈতিক বিতর্ক, সংস্কৃতি যুদ্ধ আর সামাজিক বিভাজনের এ সময়ে হলিউডে আসছে এক ভিন্নধর্মী কমেডি, যার লক্ষ্য কোনো বার্তা দেওয়া নয়, বরং দর্শকদের নিখাদ হাসির জগতে নিয়ে যাওয়া। সেই সিনেমার নাম ‘স্টপ! দ্যাট! ট্রেন!’। ড্র্যাগ শিল্পীদের নিয়ে নির্মিত এ প্যারোডি সিনেমাটি মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে এর অভিনব ধারণা এবং সাহসী নির্মাণশৈলীর কারণে।
পরিচালক অ্যাডাম শ্যাঙ্কম্যানের ভাষায়, এটি এমন এক সিনেমা যা দর্শকদের ৯০ মিনিটের জন্য বাস্তব জীবনের উদ্বেগ ভুলিয়ে দিতে পারে। তিনি মজা করে বলেছেন, ‘এটি অনেকটা শিশুদের সিনেমার মতোই সরল ও আনন্দময়, যদি না সেখানে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক রসিকতা থাকত।’
হলিউডে ড্র্যাগ শিল্পীদের নিয়ে সিনেমা নতুন কিছু নয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ড্র্যাগকে ব্যবহার করা হয়েছে হাস্যরসের উপাদান হিসাবে বা পরিচিত অভিনেতাদের ছদ্মবেশী চরিত্রে উপস্থাপনের জন্য। ‘স্টপ! দ্যাট! ট্রেন!’ সেই প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখানে ড্র্যাগ চরিত্রগুলোকে কোনো ব্যতিক্রম বা অদ্ভুত কিছু হিসাবে দেখান হয়নি; বরং তারা গল্পের স্বাভাবিক অংশ।
সিনেমার কাহিনিতে দেখা যায়, রেলওয়ে কোম্পানির দুই কর্মী টেস ও ডিডি আরও বড় স্বপ্নের খোঁজে এক বিলাসবহুল ট্রেনে কাজ শুরু করেন। কিন্তু যাত্রাপথে ট্রেনের ব্রেক বিকল হয়ে যায় এবং সেটি একটি ভয়ংকর ঝড়ের দিকে ছুটতে থাকে। এরপর শুরু হয় যাত্রীদের বাঁচানোর দুঃসাহসিক অভিযান। পুরো গল্পজুড়ে রয়েছে শব্দ নিয়ে খেলা, স্ন্যাপস্টিক কমেডি, অদ্ভুত পরিস্থিতি এবং একের পর এক হাস্যকর ঘটনা।
সিনেমাটির বিশেষত্ব হলো, এটি ড্র্যাগ সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে এনে বিনোদনের জায়গায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ড্র্যাগ শিল্পীরা নানা রাজনৈতিক সমালোচনা ও আইনি বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। অনেক অঙ্গরাজ্যে ড্র্যাগ পারফরম্যান্স সীমিত বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগও দেখা গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এ সিনেমা যেন এক ভিন্ন বার্তা বহন করছে, মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং একসঙ্গে হাসানোর।
সিনেমার অন্যতম অভিনেত্রী জুজুবি মনে করেন, দর্শকরা যখন সিনেমাটি দেখবেন, তখন তারা ড্র্যাগ শিল্পীদের পরিচয় ভুলে গিয়ে চরিত্রগুলোর প্রেমে পড়বেন। অন্যদিকে জিঞ্জার মিনজের বিশ্বাস, সিনেমাটি এমন মানুষদের কাছেও ড্র্যাগ সংস্কৃতিকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে, যারা আগে এ বিষয়ে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না।
হলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও নির্বোধ, অযৌক্তিক এবং নিছক বিনোদননির্ভর কমেডির পুনর্জাগরণ দেখা যাচ্ছে। সেই ধারারই নতুন সংযোজন ‘স্টপ! দ্যাট! ট্রেন!’। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক ক্লান্তির সময়ে সিনেমাটি দর্শকদের জন্য হতে পারে এক ঝলক স্বস্তি, যেখানে কোনো পক্ষ নেওয়ার প্রয়োজন নেই, আছে শুধু হাসি, উদ্ভটতা আর নির্ভেজাল আনন্দ। উল্লেখ্য, ড্র্যাগ শিল্পী হলেন এমন একজন অভিনয়শিল্পী, যিনি বিনোদন, আত্মপ্রকাশ বা সামাজিক বার্তার জন্য অতিরঞ্জিত পোশাক, মেকআপ এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের রূপ ও বৈশিষ্ট্যকে উপস্থাপন করেন। সাধারণত যেসব পুরুষ শিল্পী যখন নারীদের পোশাক ও সাজসজ্জা অতিরঞ্জিতভাবে ধারণ করে অভিনয় করেন তাদের বলা হয় ড্র্যাগ কুইন।
