নজরুলের স্মৃতিরক্ষায় প্রেস ক্লাব ও ডিআরইউ'র উদ্যোগ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিলনায়তন -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাহিত্যের মতো সাংবাদিকতায়ও নবযুগ সঞ্চার করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক গোলামির বিরুদ্ধে সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি তার সম্পাদিত পত্রপত্রিকায় নজরুল সর্বাত্মক স্বাধীনতার দাবি তুলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নজরুলের নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙ্গল, গণবাণী-ছিল এক একটি মহাবিদ্রোহের নাম। নজরুল গবেষকদের ভাষ্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও বিদ্রোহী সত্তার সঙ্গে আমরা বেশি পরিচিত। তার সাংবাদিক জীবনের সঙ্গে এতটা পরিচিত নই। এমনকি বর্তমান সাংবাদিক সমাজেও এতটা আলোড়িত নন সাংবাদিক নজরুল। তবে এই অভিযোগ থেকে কিছুটা মুক্তি হলেও দিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। জাতীয় প্রেস ক্লাব গত বছরের ২০ নভেম্বর তাদের সবচেয়ে বড় মিলনায়তনের (বাইরের) নাম দিয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন। এরও আগে ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছে।
নজরুলের নামে মিলনায়তন করার বিষয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ যুগান্তরকে বলেন, এটা আরও আগেই বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল, কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম যে একজন শক্তিশালী ও ব্যতিক্রমী সাংবাদিকও ছিলেন, সেটি আমাদের অনেকের কাছেই খুব বেশি পরিচিত নয়। তার সাংবাদিকতার একটি স্বতন্ত্র ধারা ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে সাংবাদিকদের কাছে নজরুলের এ দিকটি তুলে ধরা প্রয়োজন।’
প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্যদের অনেকেই এ নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বলে জানান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় কবি নজরুলের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার নামে গত বছরের ২০ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের বড় হলের নামকরণ করা হয়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন যুগান্তরকে বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাংবাদিক ছিলেন এটা ভাবতে অন্যরকম আনন্দ হয়। আনন্দটা এই ভেবে যে, আমরা নজরুলের ব্রতচারী চিন্তার উত্তরসূরি হিসাবে সাংবাদিকতায় আছি। যদিও তার আকাশসম কাজের সঙ্গে সামান্যতম চিন্তার আলোচনা চলে না। তবে মহান এ কবির স্মৃতি রক্ষার্থে আমাদের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি উদ্যোগ আছে এটা ভাবতে ভালো লাগে। তিনি উপমহাদেশের গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হয়ে আছেন। ‘নবযুগ’ দিয়ে শুরু সাংবাদিকতা করেছিলেন, শেষ করেছেনও এই ‘নবযুগ’ দিয়ে। মাঝখানে ‘ধূমকেতু’ ও ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে তিনি বিদ্রোহের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। সাংবাদিকতায় তিনি অসাম্প্রদায়িক চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। ‘মহরম’ নিয়ে বিশেষ সংখ্যা যেমন প্রকাশ করেছিলেন তেমনি শারদীয় দুর্গাপূজাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ‘সেবক’ ও ‘সওগাত’। ধূমকেতুতেই প্রথম অখণ্ড ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন নজরুল। এ জন্য তাকে কারাগারে যেতে হয়।
গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. ইসরাইল খান বলেন, নজরুল ইসলাম নবযুগ, ধূমকেতু, গণবাণী প্রভৃতিতে যত কবিতা ও বিবিধ রচনা লিখেছিলেন-তা তার রচনাবলিতে স্থায়ী সাহিত্যমূল্য লাভ করেছে। কৌতূহলী কেউ যদি পত্র-পত্রিকায় সমকালীন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রচিত সাংবাদিক নজরুলের লেখাগুলোর স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য নিরূপণের প্রয়াস পান, তাহলে তিনি আরও আনন্দদায়ক তথ্য-উপকরণ আবিষ্কার করতে পারবেন।
