Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

নাজাতের দশ দিন

কর্মব্যস্তদের জন্য শেষ দশকের সহজ আমল

Icon

মুফতি ফখরুল ইসলাম ফয়সাল

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মব্যস্তদের জন্য শেষ দশকের সহজ আমল

মুসলিম উম্মাহর জন্য রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অপূর্ব সমাহার। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই অমূল্য, প্রতিটি দিন ও রাত আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে পরিপূর্ণ। ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক নাজাতের। অর্থাৎ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সময়। এ কারণেই রমজানের শেষ দশক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। নবীজি (সা.) এ দশকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে এ সময়কে আলোকিত করেছেন।

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন, অন্য কোনো সময় এতটা করতেন না। তিনি এ সময় ইবাদতের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতেন, সারা রাত জেগে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন, যেন তারাও এ মহিমান্বিত সময়ের বরকত থেকে বঞ্চিত না হয়। (সহিহ মুসলিম)।

নিশ্চয়ই রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ সময় রাত জেগে ইবাদত করা নবীজি (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেক মানুষ কর্মব্যস্ততার কারণে দিনে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং রাতভর জেগে ইবাদত করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলামের সৌন্দর্য হলো, এটি মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখে। তাই এমন কিছু সহজ আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে কর্মজীবী মানুষও শেষ দশকের রাতের পূর্ণ সওয়াব লাভ করতে পারেন।

প্রথমত, ইবাদতের নিয়ত করে ঘুমাতে যাওয়া। কেউ যদি এ সংকল্প নিয়ে ঘুমাতে যায় যে, রাতে উঠে ইবাদত করবে, কিন্তু গভীর ঘুমের কারণে আর জেগে উঠতে না পারে, তবুও তার নিয়তের কারণে সে সারা রাত ইবাদতের সওয়াব লাভ করবে। এমনকি তার ঘুমও আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ উপহার হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, ইমামের সঙ্গে জামাতে এশা ও তারাবির নামাজ শেষ পর্যন্ত আদায় করা। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করে এবং ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত অবস্থান করে, আল্লাহতায়ালা তাকে সারা রাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করার সমান সওয়াব প্রদান করেন। (আবু দাউদ)।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো-জামাতে এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতে আদায় করে, সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদত করেছে। আর যে ব্যক্তি এশা ও ফজর উভয় নামাজ জামাতে আদায় করে, সে যেন পুরো রাত ইবাদতে অতিবাহিত করেছে। (সহিহ মুসলিম)।

এছাড়া রাতে কুরআন তিলাওয়াতও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি রাতে একশ আয়াত তিলাওয়াত করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে সারা রাত ইবাদতের সমান সওয়াব দান করবেন। (সহিহুল জামে)।

অতএব, কর্মব্যস্ত মানুষের জন্যও রমজানের শেষ দশক ইবাদত থেকে বঞ্চিত হওয়ার সময় নয়। সামান্য কিছু আন্তরিক আমল ও সৎ নিয়তের মাধ্যমেই একজন মুমিন এ মহিমান্বিত সময়ের অগণিত সওয়াব অর্জন করতে পারে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের শেষ দশকের বরকতপূর্ণ আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : গবেষক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম