রোজা অবস্থায় বীর্যপাত, কখন রোজা ভাঙে, কখন ভাঙে না
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
রোজা রেখে হস্তমৈথুন বা স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়? সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাহে রমজানের রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকেও সংযত রাখা রোজার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রোজা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত হলে রোজার ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। বীর্যপাতের ধরন অনুযায়ী রোজার হুকুম নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
যুগে যুগে বিভিন্ন নবি-রাসূলদের যুগে রোজা ফরজ ছিল। উম্মতে মুহাম্মাদির ওপর এরই ধারাবাহিকতায় রোজা ফরজ করা হয়েছে। রোজা হলো নিয়তের সঙ্গে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।
রমজান মাসে রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকেও সংযত রাখা রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনেকেই জানতে চান—রোজা রেখে হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ বা অশ্লীল চিন্তা ও দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজার ওপর কী প্রভাব পড়ে।
রোজা অবস্থায় বীর্যপাত তিনভাবে হতে পারে
১. স্বপ্নদোষের মাধ্যমে অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে। এতে রোজা ভাঙবে না।
রোজা অবস্থায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে যৌন কর্মকাণ্ড দেখার ফলে বীর্যপাত হলে, অথবা কোনো স্বপ্নের কথা মনে না থাকলেও ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত ঘটলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে থাকে। তবে ঘুম থেকে ওঠার পর দ্রুত গোসল করে পবিত্র হয়ে নেওয়া জরুরি।
২. হস্তমৈথুনের মাধ্যমে। এতে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তবে সারাদিন রোজাদারদের মতো না খেয়েই থাকবে।
এটি একটি কবিরা গুনাহ এবং রোজার পবিত্রতা নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে রমজানের পর ওই রোজার কেবল কাজা আদায় করতে হবে। তবে এর জন্য কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা) ওয়াজিব হয় না। তবে আল্লাহর কাছে তওবা করা আবশ্যক।
৩. স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে। এমতাবস্থায় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে কাজা আদায়ের পাশাপাশি এর কাফফারাও আবশ্যক হবে। একটি রোজার কাফফারা হলো লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখা।
রোজা অবস্থায় অশ্লীল দৃশ্য দেখা বা অশ্লীল চিন্তা করার পাশাপাশি যদি হস্তমৈথুন করা হয় এবং বীর্যপাত ঘটে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।
তবে শুধু অশ্লীল চিন্তা করা বা অশ্লীল দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে না, যদিও এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
