|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সানাউল্লাহ নূরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯২৮ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরের চর ফলকন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন মাওলানা সালামত উল্লাহ ও মা মনসুরা বেগম। শৈশবে সানাউল্লাহ নূরীর শিক্ষা শুরু হয় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির হাজিরহাট জুনিয়র অ্যাংলো ইংলিশ অ্যারাবিক মাদ্রাসায়। ১৯৪৭ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় তিনি বাম ছাত্ররাজনীতি ও সাংবাদিকতায় যোগ দেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সানাউল্লাহ নূরী তার কর্মজীবনে দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনতা, দৈনিক বাংলা, দৈনিক দেশসহ বিভিন্ন পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪৮ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করেন। ১৯৫২ সালে দৈনিক আজাদ ছেড়ে দৈনিক সংবাদে সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে। ১৯৬০ সালে মাসিক সওগাত পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে দৈনিক দেশের নির্বাহী সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালে দৈনিক জনতার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৮ সালে গঠিত ‘বাংলাদেশ কাউন্সিল অফ এডিটরসে’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। সানাউল্লাহ নূরী চল্লিশের দশক থেকে শুরু করে আমৃত্যু সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় কৃতিত্বের জন্য একুশে পদক পান ১৯৮২ সালে। ১৯৯৩ সালে তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন স্মৃতি পরিষদের শিল্পাচার্য পদক পান। তার রচিত গ্রন্থ প্রায় ৬০টি। এর মধ্যে উপন্যাস ৮টি।
অসুস্থতার কারণে সাংবাদিকতা থেকে অবসর নেন সানাউল্লাহ নূরী। ২০০১ সালের ১৬ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
