Logo
Logo
×

লাইফ স্টাইল

নারীদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

নারীদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

সুস্থ শরীরের ভিত্তি অনেকটাই নির্ভর করে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর। শুধু হজমই নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শক্তির মাত্রা এমনকি মানসিক অবস্থার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে অন্ত্রের। তাই ছোটখাটো হজমজনিত সমস্যাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি নারীদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন, যা জানা থাকলে অনেক গুরুতর সমস্যা আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

কারণহীন আয়রনের ঘাটতি হতে পারে বড় সতর্কবার্তা

ডা. শেঠির মতে, অতিরিক্ত মাসিক রক্তক্ষরণের মতো কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই অন্ত্রের পরীক্ষা করানো উচিত।

তিনি বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে অজানা কারণে আয়রনের মাত্রা কমে যাওয়া নীরব অন্ত্রের প্রদাহ, সিলিয়াক রোগ কিংবা কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ নারীদের অন্ত্রে বেশি প্রভাব ফেলে

বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, নারীদের ‘গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র ও মস্তিষ্কের সংযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল।

উদ্বেগ, মানসিক আঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী চাপ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিক্য, অন্ত্রের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং হজমের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কোলন ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় গুরুত্ব পায় না

নারীদের ক্ষেত্রে ক্লান্তি, পেটে খিঁচুনি বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো লক্ষণগুলো প্রায়ই মাসিক, মানসিক চাপ বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বলে ধরে নেওয়া হয়।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তে দেরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্রুত করা সম্ভব এবং ভুল রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকিও কমে।

মেনোপজের আগে ও পরে বদলে যায় অন্ত্রের কার্যক্রম

পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে অন্ত্রের ওপর।

ডা. শেঠির মতে, এই পরিবর্তনের কারণে খাদ্য অন্ত্রে ধীরগতিতে চলাচল করে, উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য কমে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বাড়ে। তাই বয়স ও হরমোনগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্ত্রের যত্নের কৌশলও বদলানো প্রয়োজন।

নারীরা অনেক সময় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটব্যথা, ফাঁপাভাব বা অনিয়মিত মলত্যাগকে নারীরা অনেক সময় স্বাভাবিক হরমোনজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। এটি হতে পারে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি।

ডা. শেঠির তথ্য অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে আইবিএস রোগ শনাক্ত হতে গড়ে প্রায় ছয় বছর সময় লেগে যায়। বিভিন্ন উপসর্গের মিল এবং সমস্যাকে অবহেলা করার প্রবণতাই এই দীর্ঘ বিলম্বের অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘদিন ধরে হজমজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে অনেক জটিলতা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম