Logo
Logo
×

লাইফ স্টাইল

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, অবহেলা করলে পড়তে পারেন যে বিপদে

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, অবহেলা করলে পড়তে পারেন যে বিপদে

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যাটি 'স্লিপ মেইনটেন্যান্স ইনসোমনিয়া' হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত স্লিপ অ্যাপনিয়া, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, থাইরয়েড বা হরমোনের পরিবর্তন কিংবা ডায়াবেটিসের মতো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। একে অবহেলা করলে পরে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রাতে এক-দুবার ঘুম ভাঙা স্বাভাবিক; কিন্তু বারবার আপনার চোখ খুলে যায় এবং তারপর আর কিছুতেই ঘুম আসতে না চায়— এ বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করবেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন যদি মাঝরাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে এটি সাধারণ সমস্যা নয়; বরং এটি আপনার শরীরের ভেতরের কোনো বড় শারীরিক বা মানসিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে। 

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেলের তথ্যানুযায়ী, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দায়ী থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, সেই কারণগুলো কী?

ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু স্লিপ অ্যাপনিয়া

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর বারবার ঘুমভাঙার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে স্লিপ অ্যাপনিয়া। এটি এমন একটি বিপজ্জনক ব্যাধি, যেখানে ঘুমের মধ্যে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যায় কিংবা ধীর হয়ে যায়। অনেকে বুঝতেই পারেন না যে, তাদের শ্বাস আটকে যাওয়ার কারণে ঘুম ভাঙছে। তবে ওরা সকালে উঠে মাথাব্যথা, সারাদিন ক্লান্তি, তীব্র নাক ডাকা এবং কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা অনুভব করেন।

ইনসোমনিয়া ও মানসিক চাপ

যারা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা খুব সাধারণ ঘটনা। এ ধরনের রোগীরা মাঝরাতে হঠাৎ জেগে ওঠেন এবং মনের মধ্যে নানা চিন্তা ঘুরপাক খাওয়ার কারণে আর ঘুমাতে পারেন না। ফলে সারা দিন খিটখিটে মেজাজ ও ক্লান্তি ভাব বজায় থাকে।

মাঝরাতে প্রস্রাব

মাঝরাতে বারবার বাথরুমে যাওয়ার কারণেও গভীর ঘুম নষ্ট হয়। সাধারণত এসব কারণে সমস্যা হতে পারে— ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, ওভার-অ্যাকটিভ ব্ল্যাডার, গর্ভাবস্থা এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

ঘরের তাপমাত্রা ও পরিবেশ

আপনার ঘরের পরিবেশও ঘুমের ওপর বড় প্রভাব ফেলে থাকে। ঘর যদি অতিরিক্ত গরম হয় কিংবা রাতে আপনার অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাবে। একটি ঠান্ডা, শান্ত ও অন্ধকার ঘরই ভালো ঘুমের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। আর ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস ঘুম নষ্ট করে। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক 'সারকাডিয়ান রিদম' ব্যাহত করে।

ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের কিছু জরুরি পরামর্শ

১. ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব রকম ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা বন্ধ করুন।

২. শোবার ঘরটি যেন অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক তাপমাত্রায় থাকে তা নিশ্চিত করুন।

৩. যদি এ সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আপনার সারা দিনের কর্মক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। তাই দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ সিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আপনাকে অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম