নগর পরিবহণে নতুন সম্ভাবনা
সৌরশক্তিচালিত নতুন বাহন ‘পডবাইক’
মো. আবদুস সালিম
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উন্নত প্রযুক্তির যানবাহন হিসাবে সম্প্রতি জনপ্রিয়তা পেয়েছে সৌরশক্তিচালিত প্যাডেল-ইলেক্ট্রিক ভেলোমোবাইল বা সংক্ষেপে পডবাইক (Podbike)। এ যান চালকের শারীরিক শক্তি (প্যাডেল) এবং বৈদ্যুতিক শক্তির সংমিশ্রণে চলে। গাড়ির ছাদে থাকা সৌর প্যানেল ব্যাটারি চার্জ করে, ফলে দৈনন্দিন ছোটখাটো কাজের জন্য এটি বড় গাড়ির বিকল্প হিসাবে কার্যকর। পডবাইকের কার্বন ফাইবার ও অ্যালুমিনিয়াম কাঠামো, হালকা ওজন এবং অ্যারোডাইনামিক ডিজাইনের কারণে সাধারণ ইভির তুলনায় কার্যক্ষমতা ২০-৩০ গুণ বেশি। এতে রয়েছে ক্যাপসুলসদৃশ ছাদ, যা রোদ, বৃষ্টি বা ঝড়ের সময় যাত্রীদের নিরাপদ রাখে। এ ধরনের যান পরিবেশবান্ধব, কারণ এগুলো ধোঁয়া উৎপন্ন করে না।
এর আধুনিক মডেল যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বেটারবাইক কোম্পানির পিইবিএল ২.০ গাড়িতে থাকে উন্নত সাসপেনশন, যুতসই আসন, উইন্ডশিল্ড, লকিং কার্গো এরিয়া ইত্যাদি। এতে রয়েছে ৭৫০ ওয়াটের মোটর। আরও রয়েছে কারের আদলে সেফটি ফিচার, কার্বন হিটার এবং ক্রুজ কন্ট্রোল সুবিধা। বর্তমানে বাজারে থাকা জার্মানের পেডিলিও চার চাকার পডবাইক চার্জ হয় সৌরশক্তির সাহায্যে। এটি প্যাডেল ছাড়াও চলে বৈদ্যুতিক মোটরে। রোমানিয়ার কোম্পানি ‘ভেলোমোবাইল ওয়ার্ল্ড’ তৈরি করে উচ্চ ক্ষমতার যান। এ মডেলের সব যানে থাকে না সোলার প্যানেল, তবে ক্রেতা চাইলে তা যুক্ত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্গানিক ট্রানজিট নামক কোম্পানির গাড়ির নকশা ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের অনেক স্থানে। স্পেনের ‘ইভোভেলো মো’ নামের যান চলে প্যাডেল এবং সৌরশক্তির সাহায্যে। জার্মানির একটি স্টার্টআপ কোম্পানির হপার মোবাইলিটি তিন চাকার সেমি-এনক্লোজড ই-বাইক ব্যাপক উৎপাদন করছে। এর ছাদে রয়েছে ঐচ্ছিক সোলার প্যানেল, যা বাড়িয়ে তোলে চলার সীমা। এনভো ড্রাইভ সিস্টেম কোম্পানি তাদের ভেমো সেমি এনক্লোজড গাড়ি উত্তর কোরিয়া এবং ইউরোপে বিক্রি করছে। তাদের বিশাল পরিমাণে সরবরাহেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব যান বহুদূর যেতে পারে কম ওজন এবং উন্নত ব্যাটারি প্যাকের কারণে। গড়পড়তা গতি ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। বেশিভাগ যানে থাকে ৩৬ ভোল্ট বা ৪৮ ভোল্টের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। এগুলোর ক্ষমতা ১০ অ্যাম্পিয়ার থেকে ২০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। ব্যাটারির শক্তি ৪০০ থেকে এক হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা। ৫০ থেকে ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করে এর সৌরপ্যানেলগুলো। গাড়ি এক ঘণ্টা রোদে থাকলে প্রায় ১০ কিলোমিটারের শক্তি ব্যাটারিতে জমা হয়। পডবাইকে একক ইঞ্জিনের পরিবর্তে থাকে বৈদ্যুতিক হাব মোটর। অনেক সময় এর ক্ষমতা ২৫০ থেকে এক হাজার ওয়াট। ঘণ্টায় ৬০-৬৫ কিলোমিটার তুলতে পারে। সেক্ষেত্রে থাকে ৭২ ভোল্টের ব্যাটারি সিস্টেম।
আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণ তিন চাকার কার্গো বা পডবাইকের মূল্য ৯০০ থেকে ১৪০০ মার্কিন ডলার। পরিবহণ ও শুল্কসহ বাংলাদেশে এ যান সরাসরি আমদানি করা এখনো চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে পডবাইক ‘টুজিরো ক্লাসিক’ নামে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছে।
