Logo
Logo
×

বাংলার মুখ

বিনামূল্যের চাল পাচ্ছেন ধনীরা

লাকসামে কার্ড পেয়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষিকা, প্রবাসীর স্ত্রী, গাড়ি ও বাড়িওয়ালা

Icon

এমএ মান্নান, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

লাকসামের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) সুবিধাভোগীদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। দুস্থদের পরিবর্তে সরকারি চাকরিজীবী শিক্ষিকা, ব্যবসায়ী, প্রবাসীর স্ত্রী, গাড়ি ও পাকা বাড়িওয়ালা যাদের রয়েছে এক বিঘা থেকে চার-পাঁচ বিঘা পর্যন্ত জমি এমন সম্পদশালীদের স্ত্রীদের নামে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবারের নারীরা পাচ্ছেন ভিডব্লিউবির চাল। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যার নামে কার্ড তিনি নিজেই জানেন না। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নামে কার্ড বানিয়ে চাল নয়ছয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে তালিকায় নাম তোলার জন্য অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অথচ তালিকাভুক্তির ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো উপজেলার অর্ধশতাধিক অসহায় নারী এ চাল পাননি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ন মনপাল গ্রামের আহছানউল্লা স্ত্রী শাহানারা আক্তার এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত তিনি পাচ্ছেন ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল। একই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও মুদি দোকানদার সানাউল্লাহ স্ত্রী হাসিনা বেগমের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত তিনি পাচ্ছেন চাল। এছাড়াও ৪নং ওয়ার্ডের চাকরিজীবী সৈয়দের স্ত্রী বিউটি বেগম রয়েছে তালিকায়, ৬নং ওয়ার্ডের দ্বীন ইসলামের পাকা বাড়ি ও কৃষি জমি রয়েছে তার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার পাচ্ছে চাল, সচ্ছল পরিবার রফিকুল ইসলাম স্ত্রী নাজমা আক্তার, বেলাল হোসেনের স্ত্রী কোহিনূর আক্তার নামে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে লাকসাম পূর্ব ইউনিয়ন উত্তর নরপাটি গ্রামের আবদুস সাত্তার ঢাকায় ব্যবসায় জড়িত এবং ছেলেরা প্রবাসে তার স্ত্রী খাদিজা বেগম নামে পাচ্ছে চাল। একই গ্রামের ইসমাইল হোসেন থাকেন প্রবাসে তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার নামে রয়েছে কার্ড। দক্ষিণ নরপাটি গ্রামের কার্ডধারী মঞ্জুমা আক্তারের সচ্ছল পরিবার তিনি পাচ্ছেন চাল। মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন বাউরতলা গ্রামের সচ্ছল পরিবার ও চার কক্ষবিশিষ্ট পাকা বাড়ির মালিক জামাল হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে কার্ড তিনি পাচ্ছেন চাল। একই ইউনিয়ন বামন্ডা গ্রামের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী রাহেলা আক্তার নামে কার্ডে অন্তর্ভুক্ত। আরও আছেন বামন্ডা গ্রামের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মৌসুমি আক্তার নামে কার্ড। একই গ্রামের রাশেদা বেগমের নামে কার্ড অথচ স্বামী প্রবাসে ও ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করেন, রানী আক্তারের স্বামী একজন প্রভাবশালী তাদের সন্তানরা চাকরিজীবী তারা পাচ্ছেন চাল। অপদিকে বাকই দক্ষিণ ইউনিয়ন কৈত্রা গ্রামের ব্যবসায়ী ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত সোহেলের স্ত্রী আছমা আক্তার নামে পাচ্ছে চাল, কোঁয়ার গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলেরা প্রবাসে এবং দেশে ডেকোরেশন দোকান তার স্ত্রী বিলকিস নামে কার্ডে পাচ্ছে চাল। কান্দিরপাড় ইউনিয়ন ইরুয়াইন গ্রামের সচ্ছল পরিবার আ: লতিফের ছেলেরা প্রবাসে তার স্ত্রী ফয়জুন্নেছা নামে পাচ্ছেন চাল। ছনগাঁও গ্রামের স্বাবলম্বী পরিবার রাজা মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম, নোয়াপাড়া প্রবাসে দুই ছেলে সোহরাব গাজীর স্ত্রী জাহানারা বেগম পাচ্ছে চাল, ভাকড্যা গ্রামের সচ্ছল পরিবার ইকবাল হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম নামে রয়েছে কার্ড। অশ্বতলা গ্রামের পাকা ঘর ও স্বাবলম্বী পরিবার আবুল কাশেমের স্ত্রী শহিদা বেগমের নামে পাচ্ছে চাল। মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন জনার্দ্দনপুর গ্রামের সচ্ছল পরিবার ও প্রবাসে তিন ছেলে কর্মরত আবদুল মালেকের স্ত্রী আয়েশা বেগমের নামে রয়েছে কার্ড।

লাকসাম উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মানসী পাল যুগান্তরকে বলেন, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনকৃতদের স্থানীয়ভাবে আর্থিক অবস্থা যাচাই এবং প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে মনোনীত করে উপজেলা কমিটিতে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। পরে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠকর্মী না থাকায় শতভাগ সরেজমিন পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না তাই ইউনিয়ন কমিটির ওপর নির্ভর করতে হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম