পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি
প্রণয় ভৌমিক, রায়পুরা (নরসিংদী)
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
নরসিংদীর রায়পুরার মোবারক হোসেনের খামারে উন্নত জাতের মুরগি। এসব মুরগি দিয়ে তিনি বনে গেছেন সফল খামারি। সম্প্রতি পৌর শহরের শ্রীরামপুর থেকে তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চার বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে শখের বশে কেনা পাঁচটি সিল্কি মুরগি দিয়ে শুরু। সেই ছোট্ট শখের খামারই আজ পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি ২২ প্রজাতির উন্নত জাতের মুরগির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায়। একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন। বর্তমানে তিনি এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। উদ্যোক্তা মোবারক পৌর শহরের শ্রীরামপুরে বসতঘরের পেছনে পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে গড়ে তুলেছেন তার ব্যতিক্রমধর্মী খামার ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ছোট জাতের মুরগি কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা ও মালয়েশিয়ান সেরামা।
বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের হোয়াইট, ব্ল্যাক টেইল, মলটেড, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, সিল্কি, সেরামা, অস্ট্রলপ, কাদারনাথ, ব্রাহামা, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল ও পাহাড়ি লাইজ্জাসহ ২২টি প্রজাতির কয়েকশ মুরগি রয়েছে খামারটিতে। এছাড়াও রয়েছে ৫০০ গ্রাম ওজনের বিশেষ জাতের কোয়েল। নানা প্রজাতির শৌখিন ও বাণিজ্যিক মুরগির সমন্বয়ে খামারটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। শুধু মুরগি পালনই নয়, ইনকিউবেটর যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন উদ্যোক্তা মোবারক। খামারে উৎপাদিত শৌখিন প্রজাতির মুরগি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমে বিক্রি করে তিনি মাসে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
মোবারক জানান, ১০০-২০০ টাকা করে জমিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচটি সিল্কি মুরগি কিনে খামার শুরু করি। এখন আমার দুটি খামার রয়েছে। দেশি-বিদেশি ২২ জাতের কয়েকশ শৌখিন জাতের মুরগি আছে দুটি খামারে।
তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের জন্য এ ধরনের মুরগি পালন হতে পারে অধিক লাভজনক ও কর্মসংস্থানের বড় মাধ্যম। নতুন উদ্যোক্তাদের আমার খামারে স্বাগত জানাই। তারা আসুক, দেখুক, ভালো লাগলে মুরগি পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেব। মোবারকের মুরগির খামার দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা আসেন। অনেকেই তার কাছ থেকে মুরগি পালনের আধুনিক কৌশল ও খামার ব্যবস্থাপনার নানা বিষয় শিখছেন। পাশাপাশি এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।
রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, পৌর শহরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ২০ থেকে ২৫ জাতের বিদেশি মুরগি পালন করছেন। ওইসব মুরগি তিনি অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। তার খামারটি দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে মুরগি পালনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। আমরা শৌখিন প্রজাতির মুরগি খামারিদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি মুরগির রোগ প্রতিরোধে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও টিকার ব্যাপারে খামারিদের সচেতন করি।
