Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

খুলনায় ভদ্রা নদী পুনঃখনন

আশ্রয়ণের ২শ ঘর মাটির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত

নূর ইসলাম রকি

নূর ইসলাম রকি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আশ্রয়ণের ২শ ঘর মাটির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত

খুলনার ডুমুরিয়ায় ভদ্রা নদী খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফেলায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার। সোমবার তোলা -যুগান্তর

খুলনায় ভদ্রা নদী পুনঃখনন প্রকল্প চলমান থাকায় মাটির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২শ ঘর। এতে দুই শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। ঘর ভেঙে যাওয়ায় নারী-শিশুদের খোলা মাঠে থাকতে হচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে বাসিন্দারা সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আবার কেটে রাখা মাটি সঠিক সময়ে না সরানোয় ঘর মেরামতে অসুবিধা হচ্ছে।

সোমবার সরেজমিন জানা যায়, ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৩টি, কাঠালতলা আসন প্রকল্পের ২৪টি এবং চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬০টি ঘরে থাকা পরিবারগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চুকনগরের বাসিন্দারা উপায় না পেয়ে খোলা মাঠে (গরুর হাট) অস্থায়ীভাবে থাকছেন।

সম্প্রতি বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ট্রাক্টরে করে মাটি সরানো হচ্ছে। বাসিন্দারা অনেকেই নিজ উদ্যোগে ঘর মেরামত শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে কাঠালতলা ও চুকনগরের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা খুবই হতাশ। চুকনগরে খোলা মাঠে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের উঠিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে গরুর হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন।

বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কৌশলা দাস জানান, নদী খননের সময় মাটি ঘরের ওপর ফেলানো হয়েছে। এখনো মাটি ফেলা হচ্ছে। ইমন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, মাটির চাপে আমাদের ঘর ভেঙে গেছে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেল। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইটভাটার মালিক শাজাহান জমাদ্দার মাটি কিনলেও তা সরিয়ে নিয়ে দেরি করেছেন। ফলে ঘরগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তপতী দাস নামে আরেক বাসিন্দা জানান, মাটির চাপে ঘরের জানালা-দরজা ও বারান্দা ভেঙে গেছে। টয়লেটও বন্ধ।

কাঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ময়না বেগম জানান, ‘গাং (খাল) ঠিক করতে যেয়ে ভেকুয়ালারা ঘরের ওপর মাটি দিয়েছে। এতে ঘরের দেওয়াল ফেটে গেছে জানালার ক্ষতি হয়েছে।’ এই প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা তানিয়া জানান, ‘আমাদের ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। ঠিক না হলে থাকব কোথায়।’

চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হাজিরা বেগম বলেন, ‘নদী কাটার সময় ঘরের ওপর মাটি ফেলা হয়েছে। ঘরগুলো বাঁচাতে পারিনি, আমরা এখন খোলা মাঠের ভেতর আছি।’

শাজাহান জমাদ্দারের মালিকানাধীন একটি ইটভাটার ম্যানেজার কৃষ্ণপদ মন্ডল বলেন, বরাতিয়া প্রকল্পের মাটি সরানো হয়েছে। অল্প কিছু বাকি আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার যুগান্তরকে জানান, নদী খনন প্রকল্পটি যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।

যশোর ব্যুরো অফিস জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবদহ এলাকার নদী পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ছয়টি নদ-নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খনন কাজ করছে সেনাবাহিনী।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম