দিবস
বিশ্ব গ্রন্থ দিবস : বইয়ে বদলে যায় মন
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২৩ এপ্রিল বিশ্ব গ্রন্থ দিবস। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো। সর্বোপরি প্রকাশক-লেখক-পাঠকের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা। বিশ্ব বই দিবসের মূল ধারণাটি আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস। আন্দ্রেস ছিলেন তার ভাবশিষ্য। নিজের প্রিয় লেখককে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস। এরপর দাবি ওঠে প্রতিবছরই দিবসটি পালন করার। ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং পালন করতে শুরু করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ সালের দিকে দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ায় মানুষ তখন কাদা দিয়ে সমতল আয়তক্ষেত্র বানিয়ে নানা চিহ্ন এঁকেছিল। ১২৫০ সালে মিসরে আর ১৪৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি স্থানে অক্ষর বসিয়ে বই ছাপানোর কাজ শুরু হলো। এশিয়ার এদিকটায় তখন গাছের বাকল, কলাপাতা বা তালপাতায় হস্তাক্ষরে পুঁথি লেখা হতো। তবে ১৪৫৫ সালে গুটেনবার্গ বাইবেল প্রথম ছাপানো বইয়ের মর্যাদা পেয়েছে। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত মার্ক টোয়েনের ‘লাইফ অন দ্য মিসিসিপি’ বইটি ছিল টাইপরাইটারে কম্পোজ করা প্রথম বই। বর্তমানে লেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অভাব নেই। বই পড়ার অভ্যাসে আক্ষরিক অর্থে মন পরিবর্তন হয়। এমআরআই স্ক্যানার ব্যবহার করে গবেষকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পড়লে অনুরণিত হয় মস্তিষ্কের নিউরন। পড়ার ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউরন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী ও পরিশীলিত হয়।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক
