Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

দুবাই যাচ্ছে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব

ফিরেছে খুনি মোবারক বেনজীরও ফিরবে

সিরাজুল ইসলাম

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফিরেছে খুনি মোবারক বেনজীরও ফিরবে

কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হত্যা মামলার আসামি মোবারক মন্ডল -যুগান্তর

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সম্প্রতি কাতার থেকে হত্যা মামলার আসামি মোবারক মন্ডলকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১৭ জন পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে। তাই বেনজীরকে নিয়েও আশাবাদী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের সমন্বয়ে দুই-এক দিনের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব (এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল) পাঠাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে আইনি কৌশল হিসাবে এই প্রস্তাবে বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা আইসিটি মামলার বিষয়টি না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা যায়, বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জের একটি হত্যা মামলার আসামি মোবারক মন্ডলকে ফেরত দিয়েছে কাতারের পুলিশ। মোবারকও ছিলেন ইন্টারপোলের রেড নোটিশপ্রাপ্ত আসামি। তিনি কাতারেই থাকতেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় এসে খুন করার একদিন পর আবার চলে যান। এর পাঁচ মাস পর সেখানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এখন তার অবস্থান নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একইভাবে দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার বেনজীরকেও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ একটি ইমেইল বার্তায় বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে আসামিকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ইন্টারপোলে এই রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দল দুদক কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। আজকের (সোমবার) মধ্যে ওয়ারেন্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে তা ইংরেজিতে অনুবাদ ও নোটারি করার কাজ শেষ করা হবে। প্রয়োজনে কিছু নথির আরবি অনুবাদও যুক্ত করা হতে পারে। সব প্রস্তুতি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (আজ) নথিপত্রগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে, মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলে বা ইমেইলের মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে দুবাইয়ে চিঠি পাঠানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পিবিআই প্রধান ও বাংলাদশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর আব্রাহাম খান আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোবারক মন্ডলকে কাতার থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইন্টারপোল ও কাতার পুলিশের সহায়তায় তাকে দেশে আনার পর আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, নিহত আল-আমিনের সঙ্গে আসামি মোবারক মন্ডলের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ওই সম্পর্কের কিছু আপত্তিকর ভিডিও আল-আমিনের কাছে ছিল, যা দিয়ে তিনি মোবারকের স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। বিষয়টি জানতে পেরে কাতারে অবস্থানরত মোবারক চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং আল-আমিনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এতে তিনি তার স্ত্রী এবং দেশে থাকা ভাগ্নে রাব্বীকেও যুক্ত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর অত্যন্ত গোপনে দেশে আসেন মোবারক। পরদিন আল-আমিনকে হত্যা করে লাশ একটি খালে ফেলেন। ১৬ ডিসেম্বর আল-আমিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ ও মাথা উদ্ধার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। ১৭ ডিসেম্বর মোবারক আবারও কাতারে পালিয়ে যান। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত রাব্বীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাব্বী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন রায়হান যুগান্তরকে বলেন, পলাতক মোবারককে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ তার পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহ করে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করে। গত ১২ এপ্রিল কাতার কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৭ মে মোবারককে কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর মোবারক মন্ডলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ফেরত এসেছেন ১৭ জন : পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ জন পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন বহুল আলোচিত আসামি বজলুল হুদা (ব্যাংকক থেকে), এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (আমেরিকা) ও ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ (ভারত)। এছাড়া দুবাই ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মাইলস’ ও জিসান চক্রের সহযোগী বেশ কয়েকজন খুনের মামলার আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে আনা হয়েছে।

গ্রেফতারের পরও যাদের আনা যায়নি : ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কোনো কোনো আসামিকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে আসামিরা অন্য দেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এদেরই একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি। ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে জামিন পান এবং পরবর্তীতে লন্ডনে পালিয়ে যান। অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হলেও ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে পরে দুবাই হয়ে ইতালিতে চলে যান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম