Logo
Logo
×

প্রথম পাতা

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা

বাড়িঘর ভাঙচুর আগুন, এসপি ওসিসহ আহত ৩০

Icon

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাড়িঘর ভাঙচুর আগুন, এসপি ওসিসহ আহত ৩০

ফাইল ছবি

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের একদিন পর ৭ বছর বয়সি শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা খেতে খুঁড়ে রাখা নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সেখান থেকে ওই শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টা খেত থেকে কোদাল হাতে ফিরতে দেখেছিলেন এক প্রতিবেশী। এই সন্দেহের জেরে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসী বিধানের বাড়িতে চড়াও হয়। গ্রেফতার এড়াতে বিধান নিজের ঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ভেতরে আত্মগোপন করেছিলেন। উত্তেজিত জনতা ঘরের তালা ভেঙে তাকে আটক করে গণপিটুনির চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ জনতা বিধানের বাড়ির উঠানে কিছু আসবাবপত্রেও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিধানকে হেফাজতে নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে নিজেদের হাতে তাৎক্ষণিক বিচার (মব জাস্টিস) করার দাবি জানায়। পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানালে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং পরে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমামসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্রাইম সিন ইউনিটসহ ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ পুরো টিমকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এভাবে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত বিধান ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তাদের লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

ইটের আঘাতে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ প্রশাসনের অন্তত ২০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ সরকারি ৭টি যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী ওই শিশুকে ফুসলিয়ে ভুট্টা খেতে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর লাশ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখে।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে আমিও আহত হয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদিতমারী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশু হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, নৃশংস এই শিশু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আপাতত থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম