সাংবাদিকদের ডা. জাহেদ
দিল্লি থেকে ফেরত আসা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দিল্লি বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখায় ‘ইনস্ট্যান্ট’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসাবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ভারতমহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আইওআর-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুদিনের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে রোববার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, পত্রপত্রিকায় যা যা দেখছেন, নানা সূত্র থেকে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মিডিয়ায় যা যা এসেছে, আসলে ঘটনাগুলো ঠিক এরকমই ঘটেছে। আমি আমার জায়গা থেকে খুব অল্প একটা কথা বলি। আমি সেখানে একটা ব্যক্তি হিসাবে যাইনি। বর্তমান সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসাবে গিয়েছি, এই রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসাবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে সেখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণেই আমি আসলে ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, যদিও আপনারা দেখেছেন, একটা পর্যায়ে তারা খুবই চেষ্টা করেছেন আমি যেন ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার যে নিয়মিত কার্যক্রম তাতে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সেটা আর করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, আবারও বলছি, এটা আমি ব্যক্তি হিসাবে মনে করেছি তা নয়। আমি মনে করেছি, সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসাবে, তখন আমার মনে হয়েছে এই রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার। আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পালটাপালটি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ এবং এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার। সেটা হচ্ছে-এটা শেখ হাসিনার সরকার নয়। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে ও বাইরে সব জায়গায়, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। সে কারণেই আসলে কাজটা করা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত না শুধু, অন্য যে কোনো দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো এনগেজমেন্টে আমরা আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না কোনো দেশের সঙ্গে খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, কোনো শত্রুতা তো দূরেই থাকুক।
জাহেদ উর রহমান বলেন, কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে, আমাদের স্লোগানের মধ্যে আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মানে, আমরা বাংলাদেশকে রাখব, তার মাধ্যমে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনগেজমেন্ট হবে।
এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কি না, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত নয়। আমাকে যদি বলেন, আমি অলরেডি বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা ইনস্ট্যান্ট রিঅ্যাকশন হিসাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি, আমাদের জায়গা থেকে এর পরে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কী করব-না-করব, সে ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না। কারণ, এটা আপনারা অলরেডি দেখেছেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে।
তিনি বলেন, যখন আমি পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম, তখন তাদের দিক থেকে খুবই আন্তরিকভাবে আমাকে অনুরোধ করেছেন। বলা হচ্ছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ইটস নট অ্যাট অল এ রিজন। আমি যদি কোনোদিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট নাও নিই, আমার কি বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে? আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে কিন্তু বাধ্যও না। ওটা একটা প্রিভিলেজ হুইচ আই ক্যান এভেইল। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে পাসপোর্ট কারণ ছিল, পাসপোর্ট কারণ ছিল না। অন্য কারণ ছিল, এগুলো ভারতের মিডিয়ায়ও কমবেশি এসেছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চাইনি ইমিগ্রেশনের সিলটা নিতে যে আমি ওখানে প্রবেশ করিনি, এটার একটা সাইন থাকা দরকার। এ কারণে আমার কিন্তু ফেরাটা জটিল হয়েছে, না হলে এটা সহজ হতে পারত। কিন্তু আমি ডিসাইড করেছি যে আমি এই সিলটা এবার নেব না।
পরবর্তী সময়ে ভারতে আবার যাবেন কি না জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি এই কথা খুব স্পষ্ট করে দিচ্ছি, আমি যদি প্রপার ইনভাইটেশন পাই, নিশ্চয়ই যাব। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেইজ করতে চাই লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি। কথাটা খুব ইম্পরট্যান্ট। ভারতের সঙ্গে এনগেইজ করার কথা বললে কারও কারও কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনো করবে না, এটা সবার আগে বাংলাদেশ বলছি আমরা। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমরা এনগেইজ করতে চাই আমাদের সমমর্যাদার ভিত্তিতে, আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ আছে।
তিনি বলেন, গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানিচুক্তি রিনিউয়াল নিয়ে কথা আছে, আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। অভিন্ন আরও ৫৩টি নদী আছে। ভারতের সঙ্গে এনগেজমেন্ট আছে। সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি, আমি সেটা লুফে নেব।
এ ঘটনার জন্য ভারতের বাংলাদেশের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা উচিত কি না, এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে এই জবাব নেই। আমাদের রাষ্ট্র হিসাবে আমরা কী পদক্ষেপ নেব, কীভাবে নেব, এটা এখন আমাদের পররাষ্ট্রকে জিজ্ঞাসা করুন, যেহেতু ডেলিগেটটা ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারা আলোচনার মাধ্যমে, নিশ্চয়ই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলে ঠিক করবেন কী করা হবে।
