Logo
Logo
×

শেষ পাতা

রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

পাহাড়ে জুমের বিকল্প কাজুবাদাম

Icon

আলাউদ্দীন শাহরিয়ার, বান্দরবান

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ে জুমের বিকল্প কাজুবাদাম

গাছে ঝুলে থাকা কাজুবাদামের ছবিটি বান্দরবানের রুমা থেকে তোলা -যুগান্তর

বান্দরবানের পাহাড়ে জুম চাষের বিকল্প হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য কাজুবাদাম। লাভজনক হওয়ায় জেলার সাতটি উপজেলায় এর আবাদ বেড়ে এ বছর ২ হাজার ৮০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এখানকার উৎপাদিত কাজুবাদাম বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে এবার খরা ও অসময়ের বৃষ্টিতে মুকুল ঝরে যাওয়ায় ফলন যেমন কমেছে, তেমনি গত বছরের তুলনায় দাম নিয়েও হতাশ চাষিরা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংক ঋণ পেলে এ খাতের আরও বিকাশ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রুমা উপজেলার উদ্যোক্তা সনুমং মারমা বলেন, এক গাছে দুই ধরনের ফল হয়। একটির নাম কাজু আপেল, অন্যটি কাজুবাদাম। দুটি ফলই খেতে সুস্বাদু। তিনি বলেন, গাছে প্রথমে নরম তুলতুলে কাজু আপেল জন্মে। এই আপেলের গোড়ায় জন্মানো বাঁকা ফলই হচ্ছে কাজুবাদাম। বাদামের ওপরে মোটা সবুজ রঙের খোসা থাকে।

বিশেষ পদ্ধতিতে খোসা ছাড়িয়ে সংগ্রহ করতে হয় কাজুবাদাম।

সনুমং মারমা জানান, চারা লাগানোর পর গাছের বয়স চার থেকে পাঁচ বছর হলে প্রথমে ফুল আসে। এরপর ফল। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি ফুল ফোটে। আর মে থেকে জুলাই কাজুবাদাম সংগ্রহের সময়।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় কাজুবাদামের চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৬১৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন। গাছের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৫৭ হাজার ২৫৯টি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চাষ বেড়ে হয়েছিল ২ হাজার ৭১১ হেক্টর। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৭৮২ মেট্রিক টন। গাছের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৩১ হাজার ১২৮টি। এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাষ বেড়েছে ৮৯ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে কাজুবাদামের চাষ হয়েছে। গাছের সংখ্যাও বেড়েছে পঞ্চাশ হাজারের বেশি। এবার ২ হাজার মেট্রিক টনের মতো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। জানা যায়, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও সদর উপজেলায় কাজুবাদামের চাষ হচ্ছে। রুমার মুনলাইপাড়ার চাষি গোলডেন বম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কম হয়েছে। খরা ও অসময়ের বৃষ্টিতে বাদামগাছের ফুল ঝরে পড়েছে। সেই সঙ্গে দামও কম এবার। গত বছর প্রতিটন কাজুবাদাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এবার ৫ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারছি না।

আরেক চাষি লাললম জোয়াল বম বলেন, আমাদের গ্রামের চুয়াত্তর পরিবারের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার কাজুবাদাম চাষের সঙ্গে জড়িত। লাভজনক হওয়ায় কাজুবাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চাষিরা। তবে এবার ফলন কম হয়েছে। সেই সঙ্গে ন্যায্য দামও পাচ্ছি না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা পেলে এই অঞ্চলে সম্ভাবনাময় কাজুবাদামের প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে উঠত। বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, কাজুবাদাম পাহাড়ের সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য। স্থানীয় চাষিদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে কৃষি বিভাগ।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম