তেঁতুলতলার রসগোল্লা নাম ছড়াচ্ছে বিদেশেও
জাহিদ রিপন, ফরিদপুর
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের তেঁতুলতলার রসগোল্লা। দাদা-বাবা থেকে শুরু করে বর্তমানে নাতিরা ৭৬ বছরের পুরোনো এই মিষ্টি তৈরির পেশা আঁকড়ে আছেন। এরই মাঝে রসগোল্লার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। স্পঞ্জের মতো তুলতুলে এবং এর অতুলনীয় স্বাদ জিভে লেগে থাকে।
১৯৫০ সালের দিকে দোকানের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ছবদার হোসেন মিষ্টি তৈরি শুরু করেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে মো. জহুরুল হক খোকা মিয়া দোকানের দায়িত্ব পান। পরে দোকানের নাম হয় ‘খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান’। ফরিদপুর শহরের কমলাপুরে তেঁতুলতলা নামক স্থানে এই দোকান অবস্থিত। আদি নাম ‘খোকা মিয়ার মিষ্টি’ হলেও স্থানীয়রা একে ‘তেঁতুলতলার মিষ্টি’ বলেই জানে। বর্তমানে তেঁতুলতলায় খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকানের আশপাশে আরও ৬টি মিষ্টির দোকান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেঁতুলতলার রসগোল্লা খেয়ে প্রশংসা করেননি এমন লোকের দেখা মেলা কঠিন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আত্মীয়স্বজনদের এই মিষ্টি পাঠান অনেকে। সরেজমিন দেখা যায়, মাটির চুলায় প্রতিদিন কাঠের লাকড়ি দিয়ে ৬ থেকে ৮ মন দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় ছানা। এরপর তা দিয়ে বানানো হয় সুস্বাদু মিষ্টি। দুধ সংগ্রহ করা হয় শহরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও চর এলাকার দেশি গরু থেকে। প্রতিটি রসগোল্লা ১২ টাকা, কালোজাম ১২ টাকা ও নিমকি প্রতি পিস ৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। একসময় খোকা মিয়ার পরিবারের সদস্যরাই মিষ্টি বানাতেন ও বিক্রি করতেন। চাহিদা বাড়ায় সন্তানদের পাশাপাশি তিনজন কারিগর নিয়োজিত রয়েছেন।
শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্র আবিদ জামান বলেন, তেঁতুলতলার মিষ্টি নামে ও মানে বেশ খ্যাত। স্পঞ্জের মতো তুলতুলে স্বাদের এই রসগোল্লার জুড়ি নেই। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মিষ্টিপ্রেমীরা এসে খেয়ে যান এবং বাড়ির জন্য নিয়ে যান এই মিষ্টি। শহরের বায়তুল আমান এলাকার বাসিন্দা সুলতান আরা বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল এই খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান। ছোটবেলা থেকেই খেয়ে আসছি এই মিষ্টি। এখনো ভুলতে পারি না এর স্বাদ।
খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। দিনে প্রায় ৩ হাজার পিস মিষ্টি তৈরি করা হয়। বড় মাটির চুলায় লাকড়ি পুড়িয়ে চোখের সামনেই তৈরি হয় এই মিষ্টি। প্রতিদিন ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মিষ্টি ও নিমকি বিক্রি হয়। বিকালের পর ভিড় বাড়ে দোকানে।
খোকা মিয়ার ছেলে মো. আমিন হোসেন বলেন, আমার দাদার মৃত্যুর পর বাবা খোকা মিয়া দোকান শুরু করেন। ১৯৯০ সালের পর থেকেই মূলত দোকানের সুনাম ও ব্যবসার প্রসার হয়।
কলেজছাত্র রায়হান, ইমতিয়াজসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমাদের বাড়ি এখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। এখানকার মিষ্টি বিশেষ করে রসগোল্লার বেশ যশ-খ্যাতি রয়েছে। মাঝেমধ্যেই সময় পেলে বন্ধুদের নিয়ে এখানে রসগোল্লা খেতে আসি। নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা মাহফুজ ও লিটন বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এ মিষ্টি খেতে আসি। এখানকার মিষ্টি অনেকে বিদেশে বসবাসরত তাদের আত্মীয়স্বজনদের পাঠিয়ে থাকে।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরীয়া স্বপন বলেন, ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলসংলগ্ন তেঁতুলতলার মিষ্টির বেশ সুনাম রয়েছে। এই বাড়িতে যারা বেড়াতে আসেন তাদের বেশির ভাগ সময় তেঁতুলতলার মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, তেঁতুলতলার রসগোল্লা মিষ্টির তালিকায় সেরা। যারা মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন, তারা এখানকার মিষ্টি খেতে আসেন।
