রাজনৈতিক বিরোধ
চৌগাছায় স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মুক্তদহ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জুয়েল রানা (৩৫) উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মুক্তদাহ গ্রামের মোড়ে আওয়ামী লীগের অনুসারী জুয়েল রানার সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের বিএনপি অনুসারী ইউসুফ, কাশেম, নজরুল মেম্বারের ছেলে বাবু ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েল রানার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা জুয়েলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ফের সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার ওপর একই লোকজন হামলা চালায়। এরপর গুরুতর অবস্থায় তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীর হত্যাকারীরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী। তাদের অপকর্মে বাধা দেওয়ায় তার স্বামীর ওপর হামলাকারীরা ক্ষুব্ধ ছিল। সকালে গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকানে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাড়ির সামনে এসে তার স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। স্বামীকে উদ্ধার করে ভ্যানে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাজার মোড়ে নামিয়ে নেয়। এ সময় তাকে (স্ত্রী) দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্বামীকে (জুয়েল রানা) ফের কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মায়া বেগম আরও বলেন, ‘আমার স্বামী পানি চেয়েছিলেন। আমি পানি দিতে পারিনি। তারা আমার স্বামীর পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে। আমি স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’ যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মোবাশ্বের হোসেন বলেন, জরুরি বিভাগে এক রোগীকে মৃত অবস্থায় পাই। তার মাথা ও শারীরের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো আঘাত ছিল।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত জুয়েল রানা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। হামলার পরে স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়েছে।
