Logo
Logo
×

শেষ পাতা

গাবতলীতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সংযোগ সড়ক

রাস্তায় ভাড়ায় বিছানো ইট তুলে নিলেন ঠিকাদার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাস্তায় ভাড়ায় বিছানো ইট তুলে নিলেন ঠিকাদার

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বগুড়ার গাবতলীতে এলজিইডি ইট-বালু ফেলে একটি রাস্তা তৈরি করে। সফর শেষে ঠিকাদার রাস্তার সেই ভাড়া নেওয়া ইটগুলো তুলে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তোলা ছবি -যুগান্তর

বগুড়ার গাবতলীর পৈতৃক ভূমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে একটি রাস্তা নির্মাণ করেছিল। সফর শেষে ঠিকাদার রাস্তার সেই ভাড়া নেওয়া ইটগুলো তুলে নিয়েছেন। এতে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ী-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়া বাড়ি পর্যন্ত ৫শ মিটার সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সীমানাসংক্রান্ত জটিলতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা পাকা করার কাজ শুরুই করেনি। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০ এপ্রিল বগুড়া সফরে আসেন। তিনি গাবতলীর বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খনন কাজের উদ্বোধন ও তার পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এলজিইডি ৫শ মিটার ওই কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে রাস্তায় ইট বিছানোর কাজ শেষ করা হয়। ঠিকাদার ভাটা থেকে ইটগুলো ভাড়া নেন। এতে আনুষঙ্গিক কাজসহ ব্যয় দেখানো হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সপ্তাহখানেক পর ঠিকাদার রাস্তায় বিছানো ইটগুলো তুলে নেন। এতে বর্ষার মধ্যে ওই সড়কে চলাচল করতে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, নিয়মনীতি মেনেই সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। ওই সড়ক পাকা করতে আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত।

গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রোকন তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষ্যে ভাড়ার ইট এনে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। ইটগুলো ভাড়ায় আনা হয়েছিল, তাই পরে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে কোনো অন্যায় বা অনিয়ম হয়নি।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবতা তা নয়। বর্তমানে সড়কের পাশে প্যালাসাইডিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সাইট বুঝে নিতে বিলম্ব হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম