কাটছে তিন মাসের শূন্যতা
চলতি সপ্তাহেই দুদক গঠনে সার্চ কমিটি
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট, দুদক ও জনপ্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুদক আইন অনুযায়ী, আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক সার্চ কমিটির প্রধান হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সার্চ কমিটির বাকি তিন সদস্য হবেন-মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ী সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান। কমিটি গঠিত হলে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদের জন্য ছয়জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। সেখান থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের একজন হবেন চেয়ারম্যান।
দুদক সূত্র বলছে, কমিশন শূন্য থাকায় তিন মাস ধরে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে সংস্থাটি। অনুসন্ধান ও তদন্ত চললেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে আছে অনুমোদনের অভাবে। নতুন মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন, সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকরণ এবং সন্দেহভাজনদের বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সোমবার জাতীয় সংসদে শিগগির দুদক কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেছেন সরকার আন্তরিক ছিল না, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। সরকার চিঠি দিয়েছিল যে, একটি সার্চ কমিটি ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু আমরা সহযোগিতা পাইনি।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান এবং মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী ও হাফিজ আহসান ফরিদকে কমিশনার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদক আইন সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৩ মার্চ চেয়ারম্যান ড. মোমেনসহ কমিশনের তিন সদস্যই পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই কমিশন শূন্য হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১২ মার্চ সংসদে উপস্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ১১ এপ্রিল থেকে দুদক সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। ফলে ওইদিন থেকে আবার কার্যকর হয় দুদক আইন, ২০০৪। নতুন আইন পাশ না হওয়া এবং পুরোনো আইন পুনর্বহাল হওয়ার পরও এতদিন সার্চ কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন দুদক কমিশন গঠনে তিন মাসের বেশি সময় নেওয়া অভূতপূর্ব। এর দায় সরকারকে নিতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলা সরকারের কাছ থেকে এমন বিলম্ব প্রত্যাশিত ছিল না।
তিনি বলেন, তবে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া ইতিবাচক। এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, যাদের সততা, দক্ষতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণিত রেকর্ড রয়েছে। আমরা আশা করব চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসাবে এমন ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে, যারা আইনের চোখে সবাইকে সমানভাবে দেখবেন এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।
সার্চ কমিটির বিষয়ে জানতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র চলতি সপ্তাহেই সার্চ কমিটি গঠিত হতে পারে বলে যুগান্তরকে ইঙ্গিত দিয়েছে।

