Logo
Logo
×

দ্বিতীয় সংস্করণ

ফিচ রেটিংসের প্রতিবেদন

রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক ঋণ মান নির্ণয়কারী সংস্থা ফিচ রেটিংস বলেছে, বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অতি উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আহরণের লক্ষ অর্জন করতে গিয়ে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই রাজস্ব আহরণ নিম্নমুখী। এছাড়া দুর্বল ব্যাংক খাত, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে মন্থরগতি, সরকারের নীতিগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত। এসব কারণে অর্থনীতিকে চাঙা করা যেমন কঠিন, তেমনি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করাও চ্যালেঞ্জিং। এ পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৩ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশেই থাকতে পারে। মঙ্গলবার ফিচ রেটিংসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা কেবল উচ্চ আশাবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ রাজস্ব আহরণ না বাড়ালে সরকারের বিনিয়োগ বাড়বে না। আর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ সম্ভব নয়। কারণ রাজস্ব আহরণে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে। যে কারণে আগেও রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে যেসব সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো বাস্তবায়নেও সরকার পিছিয়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ হার ছিল ৮ শতাংশের নিচে। এত বেশি হারে রাজস্ব আহরণ করার মতো সরকারের সক্ষমতা নেই। নতুন বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের খরচের হার ১৯ শতাংশ বাড়ানো। অর্থনীতির বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে এত ব্যয় বাড়ানো উদ্বেগজনক। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ১৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে সরকারকে কর আদায় সহজ করতে হবে, কর খাতে অব্যাহতি দেওয়ার সুবিধা কমাতে হবে, এসএমই খাত থেকে ব্যাট আদায় বাড়াতে পরিচ্ছন্ন ও সহজ নীতিমালা করতে হবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে করবহির্ভূত রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে দীর্ঘ মেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্কার সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমগুলোর বেশির ভাগই ভেঙে গেছে। কারণ সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ছিল দুর্বল। ফলে সংস্কার থেকে সুফল মেলেনি।

সংস্থাটি বলেছে, সরকার ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, অনেক সময় সে অনুযায়ী ব্যয় না করে কম করে। একই সঙ্গে ঋণও কম নেয়। রাজস্ব আয় কম হলে মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকার বাড়তি ঋণ কমাতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যেই থাকতে পারে। তবে সংস্থাটি মনে করছে, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পালন করতে সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হবে। অন্যদিকে রাজস্ব আয়ও কম হবে। প্রতিবেদনে সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়, এর মধ্যে গ্যাসের সংকট নিরসনে দেশের ভেতরে গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, এলএনজির মজুত বাড়াতে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগের ফলে মধ্য মেয়াদে অর্থনীতিকে সচল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমগুলোর বাস্তবায়নের ওপর। কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হবে তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতি চাকা গতিশীল হওয়ার বিষয়টি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম