Logo
Logo
×

দ্বিতীয় সংস্করণ

বিদেশে এস আলমের সম্পদের তদন্ত

নজরে কুয়ালালামপুরের দুই বিলাসবহুল হোটেল

Icon

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের (এস আলম) বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদের ওপর তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাইপ্রাসে তার সম্পত্তি ক্রোক করার পর সিঙ্গাপুরে অনুসন্ধান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তদন্তকারীদের নজর পড়েছে মালায়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি নামি হোটেলের ওপর। মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সংবাদপত্র দ্য এজ মালয়েশিয়া সোমবার এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এস আলমের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের ভিত্তি অর্থ পাচারের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তার এসব সম্পদ চট্টগ্রাম থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত।

গত মে মাসে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সাইপ্রাসে এস আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি ক্রোক করা হয়। একই সময়ে বাংলাদেশের একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদের ওপর অনুসন্ধান চালাচ্ছে দেশটির তদন্ত সংস্থা।

কুয়ালালামপুরের প্রাণকেন্দ্র জালান সুলতান ইসমাইল ও জালান আমপাংয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার’ এবং ‘ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

একই জমির ওপর নির্মিত এই দুটি হোটেলের মালিকানা রয়েছে ভেঞ্চুরা ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডির হাতে, যা এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন আইজিবি করপোরেশন ৭৬৫ মিলিয়ন রিঙ্গিতে হোটেলটি ভেঞ্চুরা ইন্টারন্যাশনালের কাছে বিক্রি করে। ভেঞ্চুরা ইন্টারন্যাশনালের মালিকানা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক একাধিক হোল্ডিং কোম্পানির নাম। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইআইএফ হোল্ডিং মালয়েশিয়া, ওয়াইআইএফ হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেড এবং হিলড্রিক্স এশিয়া গ্রোথ ফান্ড।

ব্যবসায়িক নথিপত্রে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিলড্রিক্স ক্যাপিটালের সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মালয়েশিয়ার জিআইআইবি হোল্ডিংস এবং সিঙ্গাপুরের এমএম২ এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হোটেল দুটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। তবে আন্তর্জাতিক তদন্তের বিস্তৃতি এবং বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক সম্পদ উদ্ধার প্রচেষ্টার কারণে ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় থাকা এস আলমসংশ্লিষ্ট সম্পদ তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম