গাজায় ইসরাইলের নৃশংসতা
বাবার কোলেই ৩ বছরের রায়ানকে গুলি করে হত্যা
ইউরোপে ফিলিস্তিন সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা * ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলি নির্যাতনের তদন্ত করবে অস্ট্রেলিয়া
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজার একজন সাধারণ কৃষক বাহা আবু আল-আজিন (৩২)। নিয়মিত গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ থেকে ওয়াদি আল-সালকা এলাকায় নিজের কৃষিজমি দেখতে যান তিনি। প্রতিদিনের মতোই রোববারও জমি দেখতে বের হন তিনি। তবে সঙ্গে নেন তার তিন বছর বয়সী ছেলে রায়ান এবং শ্যালক খালেদ আবু ঘারাবাকে। কিন্তু এক মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হয় এই সফর। ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে বাবার কোলেই নিহত হন ছোট্ট রায়ান। আহত হন বাবা বাহা আবু আল-আজিন। গতকাল মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই এ খবর জানায়। বাহার পরিবার অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি সেনারা তাদের ওপর কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালায়। গুলিবর্ষণের ফলে রায়ান নিহত ও বাহা আহত হন। বাহার কাছের আত্মীয় নাওয়াফ আবু আল-আজিন জানান, তারা সেখানে একটি বাড়ির ভেতরে অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের দেখে বিস্মিত হন। সেনারা সরাসরি গুলি চালায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গুলি রায়ানের চোখ ভেদ করে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে তার চোখ বেরিয়ে আসে এবং ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। আরেকটি গুলি বাহার পায়ে লাগে। নাওয়াফ আরও বলেন, বাহা তার নিহত সন্তানের দেহ কোলে নিয়েই ইসরাইলের কাছে দীর্ঘ সময় আটক ছিলেন। খালেদও তাদের সঙ্গে আটক ছিলেন। পরে মধ্যরাতে সেনারা আহত বাহা এবং নিহত রায়ানকে সালাহ আল-দীন সড়কে ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে তাদের আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার বিকালে শিশুটিকে দাফন করা হয়। এদিকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার আলজাজিরা জানিয়েছে, ইতালিতে ফিলিস্তিনি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মোহাম্মদ হান্নুনকে হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তার পরিচালিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হামাসের কাছে পৌঁছেছে। তবে ইতালির সর্বোচ্চ আদালত উপস্থাপিত প্রমাণকে অত্যন্ত সাধারণ ও অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করে তা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। একই ধরনের মামলায় নেদারল্যান্ডসে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডাচ নাগরিক আমিন আবু রাশিদকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব মামলা ইউরোপে ফিলিস্তিনপন্থি কর্মকাণ্ড সীমিত করার লক্ষ্যে করা হচ্ছে। আলজাজিরার আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌযানের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলি নির্যাতনের তদন্ত করবে অস্ট্রেলিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা আওটিয়ারোয়া-অস্ট্রেলিয়া জানায়, ‘ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর ইসরাইলের হামলা, যৌন নিপীড়ন এবং নির্যাতনের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার।’
