Logo
Logo
×

দশ দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মূল ভিত্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি তাকে এক নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার বিবিসির বিশ্লেষণে সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে।

শুরু থেকেই নেতানিয়াহু নিজেকে ওয়াশিংটনের ‘রাজনৈতিক পরামর্শক’ হিসাবে জাহির করতেন। মার্কিন রাজনীতিবিদদের ওপর তার সত্যিকারের প্রভাব ছিল। কিন্তু ইরান চুক্তির ফলে তিনি তার সবচেয়ে কাছের মার্কিন মিত্রের দ্বারা পুরোপুরি উপেক্ষিত এবং প্রকাশ্য অপমানের শিকার হলেন।

যিনি ইরানকে মোকাবিলার বিষয়টিকে ইসরাইলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কেন্দ্রে রেখেছিলেন, তিনি কীভাবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন-যেখানে ইরানই বরং যুদ্ধের আগের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে?

তাছাড়া, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের দাবি এখন ইসরাইলের ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসাবে পরিচিত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে, বিশেষ করে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে। ফলে নেতানিয়াহুর সামনে এখন কোনো ভালো বিকল্প নেই। সোমবার ইসরাইলের সংসদ নেসেটে, বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, ‘তার সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা- হয় আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্রের সঙ্গে সরাসরি ও মারাত্মক সংঘাত, অথবা ইসরাইলি স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্র্রতি বলেছেন যে, রোববার বৈরুতে হামলার নির্দেশ দিয়ে নেতানিয়াহু কোনো বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেননি। ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইসরাইলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং গণমাধ্যম ভাষ্যকাররা লুফে নিয়েছেন। অক্টোবর মাসের আগে হতে যাওয়া নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীরা এখন এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন। নিজের রাজনৈতিক দল লিকুদ পার্টি এবং জোট সরকারের কট্টরপন্থি মন্ত্রীদের মন্তব্যেও নেতানিয়াহুর ওপর চাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে তেহরানের এ দাবির বিষয়ে যে-যুদ্ধবিরতির আওতায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান’ বন্ধ থাকবে। ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের বাধ্য করে না। আমরা সে চুক্তির অংশীদার নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।’ মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা এবং ইরান বিশেষজ্ঞ সিমা শাইন বলেন, ‘আমেরিকানরা কেন এটি গ্রহণ করল তা বোঝা কঠিন। লেবাননে কী ঘটবে তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা ইরানকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসলে হিজবুল্লাহকে সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার এবং লেবাননের রাজনীতিতে হিজবুল্লাহকে প্রধান শক্তি হিসাবে টিকে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছেন’। ফলে নেতানিয়াহু নিজেও এখন অনেকটা নীরব।

নিজেকে প্রায়শই জয়ী হিসাবে দাবি করতে অভ্যস্ত নেতানিয়াহুর এ নীরবতাকে তার কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত হিসাবে দেখছেন অনেকেই। অন্যদিকে আট মাস আগের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে আছে। নেতানিয়াহুর এ নতুন নিরাপত্তা কৌশল ইসরাইলি বাহিনীকে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখলে আটকে ফেলেছে। এটি অনেক ইসরাইলির কাছে জনপ্রিয় হলেও, এর কোনো সুস্পষ্ট কূটনৈতিক সমাধান নেই। একই সঙ্গে এই দীর্ঘ যুদ্ধ ইসরাইলের সামরিক সম্পদ ও রিজার্ভ বাহিনীকে চরম ক্লান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বারবার সংঘাতে জড়ানো সত্ত্বেও নিজের প্রধান শত্রুদের এখনও নির্মূল করতে পারেনি ইসরাইল। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ এর সিনিয়র ইরান গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘ইসরাইলের এই ব্যর্থতা তেহরান বিষয়ক কৌশল পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। তাদের আরও বাস্তবসম্মত ও সংযত অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি মনে করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ চুক্তিটি ভেস্তে দেওয়ার প্রচেষ্টা, তবে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম