Logo
Logo
×

দশ দিগন্ত

ফ্রান্সে তিন দিনের সম্মেলন

জি-৭ মঞ্চে একঘরে ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা জোটে স্পষ্ট মতবিরোধ * ম্যাক্রোঁ থেকে মেলোনি সবাই সমালোচনার শিকার * অগ্রাধিকার লেবানন ও ইউক্রেন ইস্যু

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর জোট জি-৭-এর সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার ফ্রান্সের হ্রদ-বেষ্টিত এভিয়ান-লে-বাঁ রিসোর্টে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শান্ত লেকপাড়ের আড়ালে এবার বেশ উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহ বিরাজ করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ট্রাম্প আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও ইতালির নেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্পের কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য এবং ইরান ইস্যুতে মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্য পশ্চিমা জোটের ভেতরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ফলে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সৌহার্দ্যরে আড়ালে ট্রাম্প ও তার ঐতিহ্যগত মিত্রদের সম্পর্কের টানাপোড়েনই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে বুধবার পর্যন্ত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এই তথ্য। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আয়োজিত এবারের জি-৭ সম্মেলন শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্পের সঙ্গে জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সম্পর্কের বেশ অবনতি ঘটেছে। গত কয়েক মাসে একের পর এক মিত্র দেশের নেতাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। পুরোনো বিরোধ উসকে দিয়েছেন, একই সঙ্গে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন। ফলে পুরোনো ক্ষোভগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই উত্তেজনার অন্যতম কারণ ইরানকে ঘিরে মার্কিন নীতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপে জি-৭ দেশগুলো প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হতে অনীহা দেখিয়েছে। এ কারণে ট্রাম্প তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও সপ্তাহান্তে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, তবু ইরান ইস্যু সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। ট্রাম্প ও জি-৭ নেতাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদকাল থেকেই জি-৭ সম্মেলনগুলোতে নানা উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত দেখা গেছে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান মিত্ররা দীর্ঘদিন তার মন্তব্য ও আচরণকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করলেও এখন অনেকেই প্রকাশ্যে পালটা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন।

ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের পরিচয়। তবে দুই নেতার সম্পর্ক বরাবরই জটিল। কখনো পারস্পরিক প্রশংসা, আবার কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ, উভয়রই নজির রয়েছে। একসময় ট্রাম্পকে সামলানোর নিজের সক্ষমতা নিয়ে গর্ব করতেন ম্যাক্রোঁ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি তার বিরক্তি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে শুরুতে ট্রাম্পের সম্পর্ক তুলনামূলক ইতিবাচক ছিল। কিন্তু বাণিজ্য বিরোধ এবং দাভোসে কার্নির একটি দৃঢ় বক্তব্যের পর ফাটল ধরে সেই সম্পর্কে। এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গত বছর পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা কিছুটা সফল বলেই মনে হলেও, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন না করায় দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া ট্রাম্পের প্রিয় ইউরোপীয় নেতাদের তালিকায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিশ মার্জের অবস্থানও বেশিক্ষণ টেকেনি। যদিও মার্জ হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার সময় তার জার্মান বংশোদ্ভূত দাদার জন্ম সনদ নিয়ে এসে এক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিলেন। এমনকি ইউরোপে ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসাবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভ থেকে রেহাই পাননি। ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে পড়েন তিনি। এদিকে শীর্ষ সম্মেলনে লেবানন ও ইউক্রেন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে তার প্রশাসন। একই সঙ্গে লেবাননের চলমান সংঘাত নিরসনেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম