Logo
Logo
×

উপসম্পাদকীয়

কালচারাল রোডম্যাপ

Icon

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কালচারাল রোডম্যাপ

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত

আমরা সরকারে থাকা অবস্থায় কালচারাল পলিসি এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে সামনে রেখে অ্যাকশন প্ল্যান করার কাজে হাত দিই। এ লক্ষ্যে একটা কমিটি করে প্রাথমিক কাজও শুরু হয়। যদিও আমরা জানতাম আমাদের স্বল্পমেয়াদের সরকারের পক্ষে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না, তবুও আমাদের অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজের পাশাপাশি আমি এ পরিকল্পনা তৈরির কাজটি চালিয়ে যাই।

যখন সরকারের দায়িত্ব ছেড়ে আসি, তখন আমার পরবর্তী সময়ে যিনি বা যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদের বিবেচনার উদ্দেশ্যে আমার এ পরামর্শগুলো রেখে এসেছিলাম ‘নোট টু সাকসেসর’ শিরোনামে। এ নোট আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছেও দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের সঙ্গে এগুলো নিয়ে কয়েক দফা আন্তরিক আলোচনাও হয়েছে। কারণ, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

কয়েক দফা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটা এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটা সবার সঙ্গে শেয়ার করছি। বর্তমান সরকার তাদের পলিসির সঙ্গে যেগুলো মেলে, সেগুলো চাইলে বিবেচনা করতে পারে। যেগুলো পারবে না, সেগুলোও ভবিষ্যতে কারও চিন্তায় উসকানি দিতেই তো পারে-এ আশায় এটা ছাপিয়ে রাখছি।

এই লেখাটার দুইটা ভাগ। প্রথম ভাগে আমরা দেখব কালচার কীভাবে বাংলাদেশে ফ্যাসিজমের রাস্তা তৈরি করেছে। আর দ্বিতীয় ভাগে দেখব বহু জাতি, বহু ধর্ম, বহু ভাষার এ দেশে সবার জন্য মর্যাদার এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটা কালচারাল রোডম্যাপ কীভাবে করা যায়। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছি, সেসব।

যেভাবে কালচারাল ন্যারেটিভ ফ্যাসিজমের রাস্তা তৈরি করল

যে কোনো দেশকে কলোনি বানাতে হলে প্রথমে তাকে কালচারাল কলোনি বানাতে হয়। এতে বাকি সব কাজ সহজ হয়ে যায়। কোনো দেশকে কালচারাল কলোনি বানানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে, তার ইতিহাস দখলে নেওয়া। অর্থাৎ ইতিহাসের গল্পটা আধিপত্যবাদী প্রভুর সুবিধামতো সাজিয়ে নেওয়া। আওয়ামীপন্থি ও হেজেমনিক চিন্তা লালন করা বুদ্ধিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে এ কাজটা করে আসছেন। তারা এমনভাবে ইতিহাস রচনা করে আসছেন, যা পাঠ করলে একটা বিশেষ শক্তি বা দলকেই ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বলে মনে হয়। তাদের বর্ণনায় আওয়ামী কালচারাল ন্যারেটিভকে প্রায় ধর্মের মতো পবিত্র এবং দৈব মনে হয়। এটা করতে গিয়ে ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশকে তারা অবলীলায় বাদ দিয়ে দেয়।

আপনি দেখবেন, আমাদের দেশে আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবীদের ইতিহাসের আলোচনা শুরুই হয় বায়ান্ন থেকে। যেন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসাবে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম বায়ান্ন থেকে শুরু। যেন এর আগে আমরা ছিলাম না, আমাদের ওপর হওয়া কোনো শোষণের ইতিহাস ছিল না। সুতরাং ছিল না শোষণমুক্তির কোনো আকাঙ্ক্ষাও।

অবশ্যই বায়ান্ন ভাষার উসিলায় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আমাদের বিদ্রোহের প্রথম ধাপ। জমিদারি আর ব্রিটিশ কলোনি থেকে বের হয়ে আমরা আরেক জাঁতাকলে পড়তে চাইনি। ফলে ভাষা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ বটেই। কিন্তু এটাকে সূচনাবিন্দু দেখাতে গিয়ে আমার ওপর হওয়া এত শত বছরের শোষণ আর তার প্রতিক্রিয়ায় আমার লড়াইয়ের ইতিহাস মুছে ফেললে তো মুশকিল।

এ মুছে ফেলার প্রক্রিয়াটা দুর্ঘটনাবশত ভাবা ঠিক হবে না। কারণ এটার মধ্য দিয়ে কার্যত আড়াল করা হয় এ ভূখণ্ডের মানুষের প্রথম ও আদি লড়াই-চাষের জমি ও ফসলের ওপর তার অধিকারের লড়াই। আড়াল করা হয় উচ্চবর্ণের জমিদারদের দ্বারা হওয়া নির্যাতনের বিষয়টা, দাড়ি রাখার ওপর করারোপের মতো জঘন্য কাজের বিষয়টা, অগুরুত্বপূর্ণ করে ফেলা হয় কৃষক প্রজাদের বিদ্রোহগুলো। সম্ভবত এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, ‘আমাদের সকল অত্যাচারের ইতিহাস শুধু পাকিস্তানিদের সাথেই জড়িত’-এরকম একটা ভাব তৈরি করা। কারণ এ ভাবের ওপরই আমাদের ৫৪ বছরের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তানের সঙ্গে অবশ্যই আমাদের স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস আছে। আছে অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক বৈষম্যের ইতিহাস। আছে আমাদের সংস্কৃতির ওপর অনেক কিছু চাপিয়ে দেওয়ার ইতিহাস। আছে ভোটে জিতেও সরকারে না যেতে পারার ইতিহাস। আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ হারানোর ইতিহাস। আমরা সেই ইতিহাস যেমন স্মরণে রাখব, তেমনি শত শত বছরের ডাবল কলোনির ইতিহাসও তো মনে রাখতে চাই। ডাবল কলোনি বলতে ব্রিটিশ এবং তার নিচে জমিদারি কলোনির কথা বলছি। তো কে আমাদের ওইা ইতিহাসটা ভুলিয়ে রাখতে চায়? কে একটা বিশেষ গোষ্ঠীর ইমেজ ক্লিন রাখতে চায়? এর উত্তর খুলে না বললেও চলে।

আর তাছাড়া হেজেমনিভক্ত বুদ্ধিজীবীরা ১৯৫২ সাল থেকেও যে সবকিছুই গ্রহণ করে, এমনটাও না। আওয়ামীপন্থি ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মওলানা ভাসানীকে ইতিহাস থেকে বাদ দিয়ে থাকেন। যদিও ভাসানী ১৯৫০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। কিন্তু তাকে পাশ কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চলচ্চিত্র বা সাহিত্য কোনো মাধ্যমেই আমাদের ইতিহাস বর্ণনার অংশ করা হয়নি। একইভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রেও। একসময় তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী’ হিসাবেও উপস্থাপন করা হয়েছিল।

আরও কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক, যেটা থেকে আমরা বুঝতে পারব আমাদের কালচারাল প্রোডাক্টগুলো কতটা একপেশে। কালচারাল প্রোডাক্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা দিয়েই আমাদের সবার স্মৃতিতে ইতিহাসের নির্বাচিত অংশ গেঁথে দেওয়া হয়।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানী কেন অনুপস্থিত ছিলেন? এই সহজ কিন্তু গভীর প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কি বাংলাদেশে আমরা কোনো চলচ্চিত্র বা উপন্যাস তৈরি করেছি? ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার স্মৃতিকথায় বিষয়টি খোলাখুলি বলার পরও কি কেউ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছে? বাংলাদেশ তার মুক্তির জন্য ৯ মাস যুদ্ধ করেছে, তাহলে পাকিস্তানি বাহিনী কেন শুধু ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে? বাংলাদেশের বাহিনীর প্রধান ওসমানীকে কেন সেই অনুষ্ঠান থেকে বাদ রাখা হবে?

শিল্প-সাহিত্যে রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে কি উল্লেখযোগ্য কাজ করা হয়েছে? ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালের বিশৃঙ্খলা ও স্বৈরাচারী শাসনকে আমাদের কতজন খ্যাতিমান লেখক গুরুত্বসহকারে সাহিত্যে এনেছেন? বা লুটপাট ও চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ?

এ. কে. ফজলুল হক জমিদারি ব্যবস্থার দমন-পীড়ন থেকে আপনার-আমার মতো মানুষের পূর্বপুরুষদের রক্ষা করেছিলেন। তিনি আমাদের সাহিত্য, চলচ্চিত্র বা সাংস্কৃতিক চর্চায় কতটা জায়গা নিতে পেরেছেন?

আপনি কি কখনো আওয়ামী আমলে ঘটে যাওয়া ইলিয়াস আলীকে জোরপূর্বক গুম করার ঘটনা নিয়ে কোনো চলচ্চিত্রের কথা শুনেছেন?

ইতিহাসের এ ব্যাপারগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণ ওই একই। যাতে করে ইতিহাসের নায়ক এবং পজিটিভ শক্তি হিসাবে মূলত শেখ মুজিব, আওয়ামী লীগ এবং হেজেমনিক কালচারাল ন্যারেটিভকেই চিত্রিত করা যায়। তারাই ‘প্রগতিশীল’। আর এর বাইরে যারা, তারা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’!

এর ফলে কী হয় দেখেন-বাংলাদেশের কালচারাল ওয়ার্ল্ডে সম্ভবত সবচেয়ে ইমপ্যাক্টফুল ঘটনা অর্থাৎ ‘নতুন কুঁড়ি’র জন্ম দিয়েও প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং বিএনপির গায়ে ট্যাগ ‘কালচারালি আনকুল’ অথবা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’।

আর ওই দিকে, ১৯৭২-৭৫ সালের হাজার হাজার বিরোধী মতের মানুষকে হত্যা, একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, ২০০৮ সালের পর শত শত গুম-খুন এবং চব্বিশের জুলাইতে শত শত ছাত্র-জনতাকে খুন করেও আওয়ামী লীগ ‘প্রগতিশীল’!

এই ‘প্রগতি’, ‘প্রতিক্রিয়া’ সমাজে হাই কালচার আর লো কালচারের পারসেপশনের জন্ম দেয়। এ পারসেপশনই কাউকে কাউকে আপনার কাছে সাবহিউমান বানিয়ে তোলে। এই পারসেপশনই আপনাকে বলে দেয় আপনি কার জন্য কাঁদবেন, কার জন্য কাঁদবেন না। যে কারণে ইলিয়াস আলী বা আরমান গুম হলে আপনার মধ্যবিত্ত কালচার্ড মন কাঁদে নাই। বিএনপির শত শত কর্মী খুন হলেও আপনার মন কাঁদে নাই। কারণ কালচারাল পারসেপশন তো তাদের সাবহিউমান বানিয়ে ফেলেছে। সো ইউ ডোন্ট রিয়েলি কেয়ার ফর দেম। এভাবেই ১৬ বছর অত্যাচার করেও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখতে পেরেছিল।

চব্বিশের জুলাইতে বিএনপি ও জামায়াত যদি এ আন্দোলনের সঙ্গে বাহ্যিক দূরত্ব রক্ষা করতে না পারত, তাহলে এ আন্দোলনকেও জামায়াত-শিবির বলে ট্যাগ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হতো।

তাই সংস্কৃতির প্রশ্ন নেহায়েত কোনো নিরীহ বিষয় নয়। লেটস রিমেম্বার দিস।

ইতিহাস লুটের এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে শুধু একটা নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে পূজনীয় করে তোলা হয় তা না, এটা একইসঙ্গে ওই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাহীন হীনম্মন্যতার ফলন ঘটায়।

আপনি দেখবেন, বাংলাদেশের মানুষের মতো নিজেদের ভাষা, নিজেদের পোশাক, নিজেদের দর্শন, নিজেদের ধর্মপরিচয় ইত্যাদি নিয়ে এমন হীনম্মন্যতায় খুব কম মানুষই ভোগে। আপনি কেরালায় যান, দেখবেন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তাদের ঐতিহ্যবাহী লুঙ্গি পরে স্বচ্ছন্দে বসে আছে। আর আমরা নিজেদের লুঙ্গি লুকানোর জায়গা খুঁজে মরি। ভাষার ক্ষেত্রে-আমাদের এ দেশের কলোকুইয়াল ভাষা টেলিভিশন ও সিনেমায় ব্যবহারের অপরাধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল হেজেমনিক কালচারকে প্রায় ঐশ্বরিক ভাবা কালচারাল ইন্ডাস্ট্রি। যাই হোক, তারা আজকে পরাজিত।

আমি ২০১৪ সালে ‘এই চেতনা লইয়া আমরা কি করিবো’ শিরোনামে এক লেখায় লিখেছিলাম, নব্বইয়ের শুরুতে শাহবাগে সংস্কৃতি করতে গিয়া দেখলাম ওখানে ঈদের জামাত বা শবেবরাত উদ্যাপন করাটা ‘খ্যাত’। কিন্তু পূজা বা বড়দিনে যাওয়া প্রগ্রেসিভ। আমার কিশোরমন কিছুতেই বুঝতে পারল না এক যাত্রায় ভিন্ন ফল কেন! ওই লেখাতেই বলেছিলাম, এর বিপরীত দিকও আছে, যারা পহেলা বৈশাখকে মনে করে হারাম। এরা নারীদের কাজ করাকে আটকাতে চায়, নারী ফুটবল আটকাতে চায়, কেউ কেউ আবার সিনেমা দেখা বন্ধ করতে চায়। যাই হোক, সেই আলোচনা আরেকদিন। আজকের আলোচনা ফোকাস রাখতে চাই কীভাবে আমরা কালচারালি ফ্যাসিবাদের খাঁচায় আটকা পড়লাম।

এবার আসি লালনের প্রসঙ্গে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন লালনের মতো দার্শনিক থাকার পরও আমরা তাকে আমাদের সংস্কৃতি ও দর্শনের কেন্দ্রে রাখতে পারিনি। কাজী নজরুলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও লেখালেখি তাকে আমাদের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংগ্রামে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক চরিত্র মনে হলেও তাকে আমাদের বাম প্রভাবিত কালচারাল এরেনা প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করে নাই। এমনকি এ নজরুল কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হওয়ার পরও। বেশ তাজ্জব ব্যাপার। লালন বা নজরুলের ব্যাপারে আমাদের কুণ্ঠার প্রধান কারণ হয়তো আমাদের এদিকে কালচার নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা তাকিয়ে থাকতেন কলকাতার ভদ্রলোক সমাজের দিকে, তাদের ভ্যালিডেশনের দিকে। কালকাতা যাদের সেলিব্রেট করে না, তারা কি সেলিব্রেট করার মতো?

এগুলো সবই আমাদের হীনম্মন্যতার সাক্ষ্য বহন করে।

এখন প্রশ্ন হলো, এ বিদ্যমান অবস্থা কি অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে? আমার উত্তর, না। অনেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে শুধু একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনা হিসাবে দেখেন। আমার দৃষ্টিতে এটি একটি সাংস্কৃতিক অভ্যুত্থানও বটে। কোনো জাতি একবার যখন দমবন্ধ করা এক ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে আবার সহজে সেই খাঁচার ভেতর ঠেলে দেওয়া যায় না। ফলে জনপরিসরে এ কালচারাল কোশ্চেন জোরেশোরে উঠতে শুরু করেছে।

এ প্রশ্নগুলোকে ভিত্তি ধরে আমাদের এখন আগামীর রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। (চলবে)

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী: বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা; চলচ্চিত্র নির্মাতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম