নিষ্প্রভ হাইস্কুল গ্রন্থাগার
এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্কুল আছে, গ্রন্থাগার আছে, গ্রন্থাগারিক আছেন, যিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পান; কিন্তু কার্যক্রম নেই, দ্যুতি (আলো) নেই। গ্রন্থাগার পরিচালনার পরিবর্তে গ্রন্থাগারিককে রুটিনে অন্য ক্লাসে ‘এনগেজড’ রাখা হয়। ফলে বছরের পর বছর গ্রন্থাগার অব্যবহৃত থাকে। বই, আলমারি ও চেয়ার-টেবিলে ধুলোর আস্তর জমে। এ নিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষক, জুনিয়র শিক্ষক-কারও কোনো গরজ নেই। এক শ্রেণির শিক্ষক ও অভিভাবকের কথা-লাইব্রেরি দিয়ে কী হবে, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পড়েই সময় পায় না, ‘বাড়তি বই’ পড়বে কখন? সঙ্গত কারণেই ক্লাস রুটিনে অন্যান্য সাবজেক্ট থাকলেও ‘গ্রন্থাগার বিজ্ঞান’ নেই। এ যেন ‘কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। এই ‘হযবরল’ অবস্থা চলছে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। দেশে বেসরকারি জুনিয়র হাইস্কুল ২ হাজার ৩৬৯, বেসরকারি মাধ্যমিক হাইস্কুল ১৫ হাজার ৯১১, স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুল সেকশন ১ হাজার ৩৮২, সরকারি ৬৪টি, আপগ্রেডেড সরকারি প্রাইমারি ৬৫০। সর্বমোট মাধ্যমিক স্কুল ২১ হাজার ৩টি। মাধ্যমিক স্কুলে ‘একাডেমিক লাইব্রেরি’ বা ‘শিক্ষায়তন গ্রন্থাগার’ থাকতে হবে। সেখানে কমপক্ষে ২ হাজার বই থাকতে হবে। পাঠদানের অনুমতি গ্রহণ, স্বীকৃতি লাভের সময় এটা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বীকৃতি নবায়নের ক্ষেত্রেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারমুখী করতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। যেমন : ‘গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান’ ক্লাস রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে বোর্ডের নির্দেশনাও আছে। পরিপালন করা জরুরি। নির্দিষ্ট বই ধরে পাঠচক্র চালু করা যেতে পারে। গ্রন্থাগারে অন্তত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা রাখতে হবে। এছাড়া শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন রাখতে হবে। স্কুল পর্যায়ে ‘গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান’ সাবজেক্ট চালু করতে হবে। এটা চতুর্থ বিষয়ও হতে পারে। মাসের সেরা পাঠক-পাঠিকা (শিক্ষক-শিক্ষার্থী) নির্বাচন করে তাদের পুরস্কার দিতে হবে। বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিজ্ঞান জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, পরিবেশ অধিদপ্তর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এসব প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থী (প্রতিযোগী) পাঠাতে হবে।
গ্রন্থাগার সংগঠক
