এমপিদের দাবি প্রত্যাখ্যান
পদত্যাগ করছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কিয়ার স্টারমার। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের পর নিজ দলের এমপিদের ব্যাপক চাপের মুখেও পদত্যাগ করছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পদত্যাগ চাওয়া এমপিদের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই তিনি ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন না। এদিকে তার পদত্যাগ দাবি করা এমপির সংখ্যা ৮১ জনে উন্নীত হলেও ১০০ লেবার এমপি তাকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। খবর বিবিসি, স্কাই নিউজের।
দুই বছরেরও কম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী স্টারমার মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জানিয়েছেন, তিনি লেবার পার্টির অন্যতম ভয়াবহ নির্বাচনি পরাজয়ের দায়ভার নিচ্ছেন। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তিনি পদত্যাগ করছেন না।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর থেকে কেলেঙ্কারি ও নীতিগত ইউটার্নে জর্জরিত স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার চেষ্টায় ব্রিটেনের সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আরও সাহসী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি গতকাল যেমনটা বলেছি, এই নির্বাচনের ফলাফলের জন্য আমি দায় নিচ্ছি এবং আমরা যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের দায়ও আমি নিচ্ছি।’ স্টারমার মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, লেবার পার্টিতে নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
এর আগে সোমবার সকালে স্টারমার একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। সেটাকে অনেকেই তার প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা হিসাবে দেখেছেন। এরপরই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এরই মধ্যে তিন মন্ত্রী-অ্যালেক্স ডেভিস জোন্স, জেস ফিলিপস এবং মাইতা ফাহনবুল্লেহ সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি, উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও স্টারমারকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতা পরিবর্তনের জন্য অন্তত ২০ শতাংশ বা বর্তমানে ৮১ জন এমপির লিখিত সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীরা এখনো সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি এবং স্টারমারের বিকল্প হিসাবে একক কোনো নেতার নাম নিয়েও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পদত্যাগের দাবি নাকচ করে স্টারমার যুক্তি দিয়েছেন, এ মুহূর্তে নেতা পরিবর্তন করলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। কনজারভেটিভ আমলের ১৪ বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ফলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, তার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন অস্থিতিশীলতা কাম্য নয়।
পদত্যাগ চান ৮১ লেবার এমপি : প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগ বা সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো লেবার পার্টির এমপির সংখ্যা বেড়ে এখন ৮১ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ এ আহ্বানে যোগ দিয়েছেন মোরক্যাম্ব ও লুনসডেলের এমপি লিজি কোলিংগে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এখন স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছেন। এ কারণেই আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন সরে দাঁড়ান এবং নতুন নেতৃত্বের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন।’
লেবার পার্টির এমপিদের ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮১ জন প্রকাশ্যে অন্য একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিলে দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ৮১ জন এমপি স্টারমারকে পদত্যাগ বা সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানালেও তারা এখনো বিকল্প নেতা হিসেবে একক কোনো নেতার পক্ষে একজোট হননি।
