দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে সরকার প্রকল্পভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। নতুন এই কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বাস্তব দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর এই খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এটি দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৩ দশমিক ৫, এরপর ৪ এবং শেষ পর্যন্ত ৫ শতাংশে উন্নীত করা। তবে শুধু বাজেট বাড়ানোই যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের আসল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক দেশ জনশক্তি সংকটে থাকলেও বাংলাদেশে বিপুল জনসম্পদ রয়েছে। এই সম্পদকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (টিভেট) গুরুত্ব তুলে ধরে এহছানুল হক বলেন, টেকসই আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এ খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন হল নির্মাণের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি আশ্বাস দেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীর নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।