নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষতি বা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিলেই তা ফিরে পাওয়া যায় না; বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণে মনোযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু আপনি এখন প্রতিশোধ নিলেই কি আপনার সেই ক্ষতি ফেরত পাবেন বা সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে? হবে না। তাহলে আমরা সেই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবি যে, আমরা দেশের জন্য, সমাজের জন্য বা মানুষের জন্য কী করতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, সফলতা বা ব্যর্থতা পরের বিষয় হলেও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদপত্র জগতের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় দেশের সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আর আজ আমরা এতসংখ্যক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছি। এটি প্রমাণ করে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা স্থায়ী হয়নি।’ তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, অতীতে সংবাদপত্রের সংখ্যা সীমিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় নেতাকর্মীরা রক্ষা পেয়েছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকাসক্তি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমিত সম্পদ ও সক্ষমতার মধ্যে শুধু গ্রেপ্তার বা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি আরো বিস্তৃতভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
"








































