reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২২ ঘণ্টা আগে

যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

রাজধানীতে যানজট প্রতিদিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, বিপণিবিতান প্রভৃতি জায়গায় যাতায়াত করা এক দুঃসহ যন্ত্রণা। যানজটের কারণে কেবল রাজধানীতে প্রতিদিন বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয় নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে যানজটের কারণে দিনে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহন প্রতিদিন যানজটের কারণে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা আটকে থাকে। তাতে শ্রমঘণ্টা অপচয়জনিত জাতীয় উৎপাদনশীলতার ক্ষতি হচ্ছে। রাজধানীর যানজট কমাতে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, কোনোটাই কাজে লাগছে না। তবে সুসংবাদ হচ্ছে, রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বলা সংগত, এরই অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনাল পূর্বাচলে সরানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের বিকল্প স্থান নির্ধারণ এবং হকার ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনায়ও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে নেওয়া হয়েছে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নানা কর্মপরিকল্পনা। গত সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নবিষয়ক তৃতীয় সভা শেষে এসব তথ্য জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা। সভা শেষে ড. হাদিউজ্জামান বলেন, রাজধানীর টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে মহাখালী টার্মিনালে অবস্থানরত বাসগুলোর জন্য পূর্বাচলে অস্থায়ী ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রী নিতে টার্মিনালে আসবে। এতে মহাখালী এলাকায় যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে স্থায়ী সমাধানের লক্ষে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া যানজট নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা, হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প প্রসঙ্গে ড. হাদিউজ্জামান বলেন, এ প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে এবং দীর্ঘদিন জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাই প্রকল্পটি পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে কীভাবে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং গুলিস্তান এলাকা থেকে টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হকার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, হকারদের উচ্ছেদ না করে এবং বিশৃঙ্খল অবস্থাও বজায় না রেখে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়েছে।

বলা বাহুল্য, মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর বাস রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল করে রাস্তা সঙ্কীর্ণ করা থেকে জনগণকে বিরত রাখতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। রাজধানীর যানজট নিরসনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়