Logo
Logo
×

সারাদেশ

শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্দি করা হয় শিশু রাকার লাশ

Icon

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্দি  করা হয় শিশু রাকার লাশ

নিহত রাকিকা আক্তার রাকা। ছবি-সমাচার প্রতিদিন

বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারসহ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিকা আক্তার রাকা (৬) সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোভ্যান গ্যারেজের কর্মচারী আবু রায়হানের শিশুকন্যা। সে সান্তাহার পৌরসভার ইয়ার্ড কলোনি নূরানি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী।

আটককৃতরা হলেনÑ একই এলাকার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) ও প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা অন্যত্র বিয়ে করায় দাদির কাছে থাকত। স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসায় নার্সারি শ্রেণিতে পড়ত। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার আসরের আজানের পর শিশুটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশী আমজাদের বাড়ির সামনের দিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। এ সময় শিশুটি একা থাকার সুযোগে তাকে ধরে আমজাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির কানে একজোড়া সোনার দুল ছিল। সেটি ছিনিয়ে নিয়ে তার গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি করে লাশটি মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় ওই দিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার বাবা, ফুপু, দাদি, পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সকল জায়গায় রাকাকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোর আমিন প্রতিবেশী আমজাদ বাড়ির শয়নকক্ষ-সংলগ্ন একটি কক্ষে সাদা প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পায়। খবরটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা আমজাদ হোসেনের বাড়িতে এসে বস্তাবন্দি রাকার লাশ উদ্ধার করে আমজাদ ও তার স্ত্রী বন্যাকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমজাদ, তার স্ত্রী বন্যা এবং অপর সহযোগী বাবুকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।

পুলিশ তাদের থানায় নেওয়ার পর পরই এলাকাবাসী আটককৃতদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক ও কয়েকজন সদস্য আহত হন।

নিহত শিশু রাকা মনির বাবা রায়হান বলেন, ‘একজোড়া সোনার দুলের লোভে আমার এইটুকু মেয়েকে যারা এভাবে হত্যা করল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সোনার দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। 

প্রধান সম্পাদক- আ.ত.ম. শামসুজ্জামান

ইশা ফাউন্ডেশন’র একটি প্রকাশনা

অনুসরণ করুন